দেশবরেণ্য গীতিকবি, সুরকার, অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা ও মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে রাজধানীর আফতাবনগরে নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সঙ্গীতাঙ্গনে যাদের সাথে তার কাছের সম্পর্ক ছিল তাদের মধ্যে একজন দিনাত জাহান মুন্নি। আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সাথে নিজের স্মৃতিকথাগুলো বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মোস্তফিজ মিঠু
শুরুতে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে নিয়ে আপনার কিছু কথা জানতে চাই—
আমাদের সঙ্গীতাঙ্গনের সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিলেন বুলবুল ভাই। শুধু আমার নয়, আমরা যারা সঙ্গীতাঙ্গনের সাথে যুক্ত প্রায় সবার সাথে তার একটা আত্মিক সম্পর্ক ছিল। তবে আমার সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকে যদি বলি তিনি অনেক কাছের মানুষ ছিলেন আমার পরিবারের। নিয়মিত আমাদের খোঁজখবর নিতেন। কোনো ভালো বা খারাপ কিছু শুনলে ফোন দিতেন।
তার সাথে আপনার শেষ দেখা হওয়ার মুহূর্ত সম্পর্কে বলুন—
গতবছর ৭ জুলাই বুলবুল ভাইয়ের হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সময় তার বাসায় গিয়েছিলাম। তার জন্য রান্না করে নিয়ে যাই। সেদিন তার সাথে অনেক কথা হলো। আমি জানতে চাইলাম এই সময়ে তিনি কী চান। তিনি সবসময় বলতেন এই কোলাহল ছেড়ে বের হতে চান। বুলবুল ভাই সত্যিই কোলাহল ছেড়ে দূরে চলে গেলেন। ইট-কাঠের শহর তার কখনো ভালো লাগতো না।
আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সাথে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা—
বুলবুল ভাইয়ের সাথে আমার প্রথম কাজ ‘ফেলানি’ গানটি। এরপরও ভালো কোনো প্রজেক্ট হলে তিনি আমাকে বলতেন। তবে একটা বিষয় শিখেছি যে, ভালো কাজের জন্য তিনি কখনো ছাড় দিতেন না। এই মুহূর্তে বুলবুল ভাইয়ের সাথে শেষ একটি কনসার্টে গানের কথা মনে পড়ছে। এটি তার সাথে আমার অন্যতম স্মৃতির কথা। তার সাথে আমি স্টেজে ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ গানটি করেছিলাম।
বিটিভিতে আপনার একটি অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন পর তিনি গিয়েছিলেন। সে প্রসঙ্গে জানতে চাই—
প্রায় ৩০ বছর পর বুলবুল ভাই বিটিভির অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। আর সেটি ছিল আমার উপস্থাপনায় একটি অনুষ্ঠান।
এবার আপনার বর্তমান কাজ প্রসঙ্গে কিছু বলুন—
আজকে আর কাজের কথা বলতে চাই না। এই মুহূর্তে আমাকে নিয়ে বলার মতো অবস্থায় নেই। শেষে বলবো সবাই মানুষটার জন্য দোয়া করবেন।
