পাখি

মাছরাঙা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৩৩

আমাদের দেশে যে কয়টি প্রজাতির মাছরাঙা দেখা যায়—ছোট মাছরাঙা তার মধ্যে অন্যতম। প্রায়ই শিকারের সন্ধানে জলাশয়ের কাছে নিচু গাছের ডালে তীক্ষ দৃষ্টিতে শান্ত হয়ে বসে থাকতে দেখা যায় এই পাখিটিকে। শিকারের অবস্থান লক্ষ করে দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে পানিতে। শিকারের সময় পানির দিকে মাথা নিচু করে ছোঁ মারে, প্রয়োজনে পানির ভেতরেও প্রবেশ করে। শিকার ধরে নিয়ে গাছের ডালে আবার ফিরে আসে। এরপর কয়েকবার আছাড় মারে তারপর শূন্যে ছুড়ে দিয়ে মাথার দিক থেকে গিলে ফেলে। শিকারে পরিণত হওয়া প্রাণীকে কিছু বুঝে ওঠার সময় কিংবা সুযোগ কোনোটি দেয় না। মাছরাঙার প্রধান শিকার মাছ; অন্যান্য শিকারের মধ্যে রয়েছে পোকামাকড়, ব্যাঙ, সরীসৃপ, পাখি এমনকি ছোট আকারের স্তন্যপায়ী।

সুদর্শনীয় পাখিটি লম্বায় ১৮-২০ সেন্টিমিটার। মাথা ও ঘাড়ের দিকটা ফিরোজা রঙের। ঘাড়ের পাশে সাদা রেখা বিদ্যমান। দেহের উপরাংশ সবুজাভ-নীল। ডানার নিচ লালচে-কমলা। পা গাঢ় লাল। নখ ছাই বর্ণের। চোখের মণি গাঢ় বাদামি, ঠোঁট কালো। প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত। এ সময় এরা জোড় বেঁধে থাকতে পছন্দ করে। স্ত্রী পাখিটি একসঙ্গে ৪ থেকে ৬টি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো দেখতে চকচকে সাদা। ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে ১৯-২০ দিন লাগে। বাচ্চা উড়তে শেখে ২০-২৫ দিনে। জলাশয়ের পাশে খাড়া গর্তে এরা বাসা বানায়। নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে এক স্থানে বছরের পর বছর কাটিয়ে দেয়।

গ্রাম বাংলায় পাতি মাছরাঙা নামে পরিচিত। পৃথিবীতে এ পাখির পনেরোটি প্রজাতির মধ্যে বাংলাদেশে তিনটি প্রজাতির দেখা মেলে। দিন দিন জলাশয়ের পরিমাণ কমে যাওয়া ও অবাধ শিকার করার কারণে আজকাল মাছরাঙা আর আগের মতো দেখা যায় না।