শরণখোলা উপজেলার শরণখোলা (খুড়িয়াখালী) গ্রামের মৃত চান বয়াতীর পুত্র রিপন বয়াতী সাড়ে তিন বছর ধরে মালয়েশিয়া প্রবাসী। অথচ সম্প্রতি এক হরিণ শিকার চেষ্টার মামলার আসামি করা হয়েছে তাকে। এমন অভিনব ঘটনা ঘটেছে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শাপলা টহল ফাঁড়িতে।
ঐ গ্রামের মত্স্যজীবী রুস্তম বয়াতী সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগে জানান, তার ছোট ভাই রিপন মালয়েশীয় একটি কোম্পানিতে চাকরি নিয়ে ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যান। তখন থেকে এখনো পর্যন্ত সে কুয়ালালামপুরেই অবস্থান করছেন। অথচ চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি সুন্দরবনের শাপলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনিমেষ সরকার বাদী হয়ে দায়ের করা একটি হরিণ শিকার চেষ্টার মামলায় রিপন বয়াতীকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
মালয়েশিয়া থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইমেইল ও মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের রিপন বয়াতী বলেন, মালয়েশিয়া আসার পর এ পর্যন্ত একবারও বাংলাদেশে যাইনি। অথচ মামলার বাদী না কি গত ৮ জানুয়ারি আমাকে সুন্দরবনে দেখেছেন! তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এর প্রতিকার দাবি করেছেন।
জানতে চাইলে মামলার বাদী শাপলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনিমেষ সরকার বলেন, হরিণ ধরার জন্য ফাঁদ পেতে অন্য আসামিদের সঙ্গে জঙ্গলের মধ্যে রিপন বয়াতীকেও তিনি দৌড়ে যেতে দেখেছেন। এ ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত বলে জানান।
উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালীর ওয়ার্ড মেম্বার বাচ্চু মুন্সি বলেন, রিপন প্রায় চার বছর মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। এ ছাড়া এই নামে আর কোনো লোক খুড়িয়াখালী (শরণখোলা) গ্রামে নেই। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের বলেন, নিরীহ মানুষের মামলার আসামি হওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
