কাজ দেওয়ার পর বড় ধরনের সংশোধনের সুযোগ কমাতে হবে

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:২৫

চীনারা প্রথমে কম দর দিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে। এক বছর পর দর দ্বিগুণ, তিনগুণ করে নিচ্ছে। এভাবে ছোট টোপ দিয়ে খেলতে দেওয়া যাবে না। অন্যদের ক্ষেত্রে তেমন দেখা যাচ্ছে না। বেশি হচ্ছে চীনা প্রকল্পে। এখানে সরকারকে সাবধান হতে হবে। কাজ দিয়ে দেওয়ার পর বড় ধরনের সংশোধনের সুযোগ কমাতে হবে।

গতকাল শনিবার এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার আয়োজিত ‘সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণে পিছিয়ে দেশীয় নির্মাণ শিল্প’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে এমন মতামত উঠে আসে। সেমিনার সঞ্চালনা করেন এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারের সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেন, যদি পলিসি ঘাটতি থাকে তাহলে এর দায় আমাদের ঘারেই আসে। পলিসির কারণে দেশীয় উদ্যোক্তারা ক্ষতির মুখে পড়ুক—তা আমরা চাই না। শেষ পর্যন্ত টাকাটা জনগণের। আমরা আবেগের বশবর্তী হয়ে কিছু করতে চাই না। তিনি বলেন, তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসেবে কিছু খাতির পেতাম। সেগুলো থেকে এখন বঞ্চিত হব। প্রকল্প কেন বিলম্বিত হবে। সো কলড দাতা সংস্থার কিছু বিধি নিষেধ থাকে—অন্যদের থেকে কম সুদে দেওয়া হচ্ছে বলে। শর্ত অনুযায়ী, কনসালটেন্ট নিয়োগ করতে হয়। পাঠিয়ে দিয়ে বসে থাকতে হয়। অনেক সময় দেরি করতে হয় তাদের অভ্যন্তরীণ কারণে। আমরা যদি অর্থনৈতিক, কারিগরি ও মানসিকভাবে শক্তি অর্জন করতে পারতাম তাহলে ভালো হতো।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব, জাতিসংঘের ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামে বাংলাদেশের বিশেষ দূত আবুল কালাম আজাদ বলেন, রুলস রেগুলেশনগুলোকে হালনাগাদ করা হয়নি সব সময়। স্থানীয়রা যেন যথার্থ সুযোগ পায়। তাহলে তারা অন্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো করতে পারবে। একটি টাস্কফোর্স গঠন করে করের বিষয়ে মূল্যায়ন করতে পারলে ভালো হবে। কোথায় কোথায় পরিবর্তন দরকার। উন্নয়ন সহযোগীরা শক্তের ভক্ত নরমের যম। আমি নিজে দেখিছি। ধরে নিলাম—বিদেশি কনসালটেন্টের বদ মতলব নেই। তবে তাদের অভিজ্ঞতা দিয়ে এমন কাজ করে যাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের কাজের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। যারা গাইড করেন তাদের সচেতন থাকতে হবে। প্রকল্প পাওয়ার পর বড় সংশোধন অনেকে চায়। প্রকল্পের কাজ শুরু করতে করতে দুই-তিন বছর পার হয়ে যায়। রেট শিডিউল অটোমেটেড সিস্টেম করা যায় কি না। তাহলে বখরা খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। মেজর রিভিউ করার প্রয়োজন পড়বে না।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. এম এম মজিদ বলেন, দেশীয় ঠিকাদার কাজ করতে হলে, ট্যাক্স দিতে হচ্ছে। বিদেশি ঠিকাদার ট্যাক্স দিতে হচ্ছে না, সেভাবে হিসেব করছে। স্বচ্ছতার জন্য সরকার নিজের পকেটের টাকা নিজেই দেবে, তবুও স্বচ্ছতার জন্য এটি করা প্রয়োজন। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত স্বনির্ভর হওয়া। বুয়েট ও বিআরটিএ মাত্র ১৫ দিনে হাতিরঝিলের ডিজাইন করে দিয়েছে। আমি আমার স্বার্থ দেখব কি না সেটি ভাবার বিষয়।

পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক আহসান মনসুর বলেন, প্রত্যেকটি কাজেই অভ্যন্তরীণ অংশীদার থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে। বড় আকারে করা না গেলেও যতটুকু পারা যায় নিশ্চিত করতে হবে। অনুন্নয়ন ব্যয় কমিয়ে বড় প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে করতে পারবে সেই আশা এখন ক্ষীণ। নিজস্ব অর্থায়ন করতে না পারলে শৃঙ্খল মুক্ত হতে পারব না।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এফবিসিআইর সাবেক প্রেসিডেন্ট মীর আখতার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর নাসির হোসেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শিশির কান্তি রাউথ, এনার্জিপ্যাক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির এমডি প্রকৌশলী রেজওয়ানুল কবীর, এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ারের কন্ট্রিবিউটিং এডিটর প্রকৌশলী খন্দকার আব্দুস সালেক সুফী। বিএএসআইর প্রেসিডেন্ট ও ডিকন লিমিটেডের এমডি এস এম খুরশীদুল আলম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।