মো. জুয়েল মৃধা
সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে। কিন্তু সেটার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। আমি আজ ট্রাফিক আইন বা আমাদের রাস্তায় চলাচল করার নিয়ম সম্পর্কে বলবো। এই সমস্যার সমাধান চেয়ে স্কুল কলেজের ছোট ছোট বাচ্চারা রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা দেখিয়ে দিয়েছে চাইলে সব কিছু করা সম্ভব। তারা যদিও সাময়িক সময়ের জন্য সফল হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পর সড়ক ব্যবস্থাপনা আবার আগের মতো হয়ে যায়। আমি ঢাকা কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের একজন রোভার হওয়ার ফলে আমি সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আর তাই দীর্ঘ এক মাসের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি এই সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন সবার সচেতনতা। আসলে আমাদের দেশ একটি জনবহুল দেশ। তার তুলনায় আমাদের দেশের সম্পদ, রাস্তাঘাট সীমিত। কিন্তু আমাদের যা আছে সেটা যদি আমরা সচেতনতার সঙ্গে ব্যবহার করি। তাহলে হয়তো আমাদের সমস্যা অনেকটা কমে আসবে।
বাংলাদেশ স্কাউটের একজন সদস্য হওয়ার সুবাধে আমি ট্রাফিক সপ্তাহে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমার সৌভাগ্য হয়েছে একজন ট্রাফিক পুলিশের কষ্ট অনুধাবন করার। আমার দায়িত্বরত পয়েন্ট ছিল ঢাকার সবচেয়ে যানজট সম্পন্ন স্থান শাহবাগ। শাহবাগ মোড় হচ্ছে চারটি রাস্তার সংযোগস্থল। এখানে ঢাকার মধ্যে বড় বড় হাসপাতাল, বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় জাদুঘর এবং শিশুপার্ক থাকার ফলে এখানে জনগণের সমাগম খুব বেশি। যার ফলে শাহবাগে খুব যানজট হয়। আর এই যানজট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজন বেশিসংখ্যক ট্রাফিক পুলিশ, সাধারণ জনগণের সচেতনতা এবং আইন মেনে চলার মানসিকতা।
আমরা প্রতিদিনই খবরের কাগজে, টেলিভিশনে দেখতে পাই এখানে-ওখানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে আবার অনেকেই আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় কেবলমাত্র একজন মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না পুরো একটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা একটা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ বা তার পরিবারই অনুভব করতে পারে। আর এই সড়ক দুর্ঘটনার জন্য আমরা বরাবরই গাড়িচালককে দোষারোপ করি। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধুমাত্র গাড়িচালক দায়ী নয়। কেননা আমি আমার ট্রাফিক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি একটা দুর্ঘটনার পিছনে শুধু গাড়িচালক দায়ী নয় অনেক সময় পথচারীও দায়ী থাকে। কারণ তারা অনেক সময় ট্রাফিক আইন মেনে চলে না, সময়ের কথা চিন্তা করে দ্রুত রাস্তা পার হওয়ার সময় ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে না। মানুষ একটু সময় বাঁচানোর জন্য তাড়াহুড়ো করে, সিগন্যাল অমান্য করে এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা মানতে চায় না। আর অন্যদিকে অতিদ্রুত গাড়ি চলাচল করে। ফলে পথচারীর ও গাড়ির সংঘর্ষে ঘটে মারাত্মক দুর্ঘটনা।
আমরা ছোটবেলা থেকে পড়ে আসছি জেব্রাক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপার হবো। কিন্তু আমরা তার কতটুকু মেনে চলি। তারপর সবুজ বাতি জ্বলে উঠলে গাড়ি চলবে, লাল বাতি জ্বলে উঠলে গাড়ি থামবে। আমরা তারই বা কতটুকু মেনে চলি। একটা মানুষ যখন বড় হওয়ার পর দেখে ছোটবেলা থেকে সে যা জেনে আসছে বা পড়ে আসছে, তার বাস্তবিক কোনো প্রয়োগ নেই। তার ফলে স্বভাবত আমাদের উপর একটা বিরূপ প্রভাব পড়ে।
পথচারী রাস্তা পারাপার হওয়ার সময় মোবাইল ফোনে কথা বলে, হেডফোন ব্যবহার করে, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে না এবং সিগন্যাল মানে না। এই সব কারণে আমরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকি। তারপর আমরা অনেকেই ট্রাফিক আইন না মেনে ক্ষমতার অপব্যবহার করে উল্টোপথে চলাচল করি এবং সিগন্যাল না মেনে চলাচল করি।
এছাড়াও রাস্তার সংস্কার ঠিক মতো হচ্ছে না, কোথাও জেব্রাক্রসিং আছে আবার কোথাও জেব্রাক্রসিং নেই এবং কোথাও কোথাও ফুটওভার ব্রিজ নেই। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটওভার ব্রিজ তৈরি করতে হবে এবং জেব্রাক্রসিং তৈরি করতে হবে। যেমন ঢাকা কলেজের সামনে কোনো জেব্রাক্রসিং নেই। কিন্তু প্রতিনিয়ত ঢাকা কলেজের শত শত ছাত্র রাস্তা পার হচ্ছে। অনেক সময় মারাত্মক দুর্ঘটনাও ঘটে।
তাই সড়ক দুর্ঘটনার মতো দেশের অন্যতম সমস্যা সমাধানের জন্য রাস্তার সংস্কার করতে হবে, সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে, দুর্নীতি কমাতে হবে এবং ট্রাফিক পুলিশের কর্মঘন্টা একটু কমালে হয়তো তারা আরো সচেষ্ট হতে পারবেন। এইসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটা হ্রাস পাবে আশা করা যায় এবং আবার সড়ক ব্যবস্থাপনায় ফিরে আসবে শৃঙ্খলা।
n লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ
