র্যাগিংমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় চাই

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৮

জয়নুল হক 

নতুন বছরে নতুন আশা নিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। আর তারই সঙ্গে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে র্যাগিং নামক অপসংস্কৃতি। র্যাগিং-এর শাব্দিক অর্থ ‘পরিচয় পর্ব’। কিন্তু বাস্তবে এই ‘পরিচয় পর্বের’ নামে চলে মানসিক নির্যাতন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুরাতন শিক্ষার্থীদের একটা সখ্য গড়ে তোলার জন্য যে পরিচিত প্রথা সেটাকে র্যাগিং বলে অভিহিত করা হয়। কিন্তু এখন যা হচ্ছে তাকে র্যাগিং বলে না। এখন ক্যাম্পাসে আসা নবীনরা সর্বদাই র্যাগিং-এর ভয়ে ভীত থাকে।

‘আদব-কায়দা, নিয়ম-কানুন’ শেখানোর নামে তাদের ওপর চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। শারীরিক নির্যাতনের মধ্যে আছে কান ধরে ওঠ-বস করানো, রড দিয়ে পেটানো, পানিতে চুবানো, উঁচু ভবন হতে লাফ দেওয়ানো, সিগারেটের আগুনে ছ্যাঁকা দেয়া, গাছে ওঠানো, ভবনের কার্নিশ দিয়ে হাঁটানোসহ দিগম্বর করা পর্যন্ত। আর মানসিক নির্যাতনের মধ্যে আছে গালি-গালাজ করা, কুত্সা রটানো, নজরদারি করাসহ নিয়মিত খবরদারি করা। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী আতঙ্কে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়। কাউকে কাউকে ডাক্তারের শরণাপন্নও হতে হয়।

আর দিন দিন এর মাত্রা বেড়েই যাচ্ছে। সিনিয়ররা র্যাাগিং-কে ফান হিসেবেই মনে করেন। তারা মনে করেন, এর মাধ্যমেই জুনিয়রদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়। সখ্যতা গড়ে ওঠে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণই ভিন্ন। দেখা হলে, ভয়ে সালাম দিয়ে সম্মান দেখানো আর আড়ালে গিয়েই বকা দেওয়া কখনও সম্মান হতে পারে না। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এটাকেই অনেকে সম্মান ও শ্রদ্ধা বলে মনে করেন! আজ যে র্যাগিং-এর শিকার হচ্ছে, সে নিশ্চয়ই আগামীতে এর চেয়ে বেশিমাত্রায় র্যাগিং দেওয়ার পরিকল্পনা করবে।

যার ফলে, এ অপসংস্কৃতি বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। অনেকেই ক্যাম্পাসে সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ককে ভাই-বোনের সম্পর্ক বলে থাকেন। যদি ভাই-বোনের সম্পর্কই মনে করেন, তাহলে তাদেরকে র্যাগিং-এর মাধ্যমে অশ্লীল কথাবার্তা বলতে বাধ্য করছেন কেন? প্রপোজ করানো, রুম মাপা, জোর করে গান গাওয়া, নৃত্য করানো প্রভৃতি কি শিক্ষার অংশ? এর মাধ্যমে আপনারা কি শিক্ষা দিচ্ছেন!

সম্প্রতি বছরগুলোতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং নামক অপসংস্কৃতি মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মুক্ত জ্ঞানচর্চার জায়গা, সেখানে আমরা শুরুতেই কেন তাদেরকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছি! কেন তাদের চলাচলে হস্তক্ষেপ করছি! প্রকৃতপক্ষেই এটা কখনোই কাম্য নয়। মূলত প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় র্যাগিং নামক অপরাধ সংঘটিত হয়। আমাদেরকে এ অপসংস্কৃতি চর্চা করা থেকে বেরিয়ে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে। সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই র্যাগিংমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সম্ভব।

n লেখক:শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়