সিনেটে ট্রাম্পকে অভিশংসনের চেষ্টা

মুক্ত ট্রাম্পের ভবিষ্যত্ রাজনীতি কঠিন হবে?

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:০৭

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাস্প বিদায় নেওয়ার এক সপ্তাহ আগে প্রতিনিধি পরিষদে দ্বিতীয়বারের মতো অভিশংসিত হয়েছিলেন। প্রথমবার ইউক্রেন ইস্যুতে এবং দ্বিতীয়বার কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলায় উসকানি দেওয়ার জন্য। রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় প্রথমবার তিনি সিনেটে অভিশংসন থেকে রেহাই পান। দ্বিতীয়বারের মতো অভিশংসন প্রক্রিয়ায়ও ট্রাম্প খালাস পেয়েছেন। এই ধারণা আগেই করা হয়েছিল। কারণ ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করতে সিনেটে যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা দরকার তা ডেমোক্র্যাটদের নেই। তারপরও কেন এই বিচার চলল তা-ই জানার চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।

 

g মুক্ত ট্রাম্পের ভবিষ্যত্ রাজনীতি কঠিন হবে?

রিপাবলিকানরা যেমন জানেন, তেমনি ডেমোক্র্যাটরাও জানতেন ট্রাম্পকে সিনেটে অভিশংসিত করা কিংবা তার বিরুদ্ধে ক্যাপিটল হিলে হামলায় অভিযুক্ত করা সম্ভব নয়। তাইতো তিনি শেষ পর্যন্ত খালাস পেলেন ৫৭-৪৩ ভোটে। এই বিচারের রায়ের ফলে ২০২৪ সালে আবার প্রেসিডেন্ট হতে ট্রাম্পের আর কোনো বাধা থাকল না। ট্রাম্পের বিপক্ষে তার দলের সাত সিনেটর ভোট দিয়েছেন। কিন্তু সিনেটে ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করার জন্য ১০০ আসনের সিনেটে আরো ১০ জন রিপাবলিকান সিনেটরের ভোট দরকার ছিল। সিনেটে সংখ্যালঘিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককোনেলসহ অনেকেই ট্রাম্পকে ক্যাপিটল হিলের হামলায় উসকানিদাতা মনে করেন। কিন্তু তারপরও তারা ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দেননি। মূলত রিপাবলিকান পার্টি ভাঙতে পারে এই আশঙ্কা তাদের মধ্যে আছে। ট্রাম্পও এর আগে তৃতীয় রাজনৈতিক দল ‘প্যাট্রিয়ট পার্টি’ গঠনের হুমকি দিয়েছিলেন। সিনিয়র রিপাবলিকান নেতৃবৃন্দ এটা বুঝতে পেরেছেন যে, দল ভাঙলে এর সুবিধা পাবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ভবিষ্যতে রিপাবলিকানদের জন্য ক্ষমতায় আসা কঠিন হবে। আবার রিপাবলিকানরা চাননি যে সাবেক কোনো প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করা হোক। কারণ তিনি এখন সাধারণ জনগণের মতোই। তাকে অভিশংসিত করে বাস্তবে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। আবার অভিশংসনের শিকার হলে ট্রাম্প দেশের জন্য ক্ষতিকর কিছু করে ফেলতে পারেন এমন আশঙ্কাও ছিল। এরই মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার কাছে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ না করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে ট্রাম্প অভিশংসিত না হলেও তার ভবিষ্যত্ রাজনীতি খুব সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ পার্লামেন্টে বিচার তাকে ভোগাবে। ডেমোক্র্যাটরা তার বিরুদ্ধে ক্যাপিটলে হামলায় উসকানি দেওয়ার মামলাও করতে পারেন আদালতে। এতে তিনি অভিযুক্ত হলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে।

 

g অভিশংসন প্রক্রিয়া ছিল সাংবিধানিক

ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়াকে সংবিধানসম্মত উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রক্রিয়ার অনুমোদন গত মঙ্গলবার দেয় মার্কিন সিনেট। ৫৬-৪৪ ভোটে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে রায় আসে। ক্যাপিটল হিলে গত ৬ জানুয়ারির ভয়াবহ হামলার ঘটনায় সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার একটি ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয় এবং এ ভিডিওটি ছিল ট্রাম্পের ৬ জানুয়ারির বক্তৃতা এবং তার সমর্থকদের তাণ্ডবের দৃশ্য। এই বিচারে কোনো প্রত্যক্ষদর্শীকে হাজির করা হয়নি। সব প্রমাণই ছিল ডিজিটাল মাধ্যমের।

 

g তারপরও কেন

ইমপিচমেন্ট ম্যানেজাররা জানিয়েছেন, ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন ভিডিওকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ সাজিয়েছেন তারা। ছয় জন বিশেষজ্ঞকে এ ব্যাপারে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিটির অন্যতম আইনজীবী ও মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেমি রাস্কিন এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, এটা বড় অপরাধ ও অসদাচরণ। এটা অভিশংসনযোগ্য অপরাধ না হলে আর কিছুই তা হতে পারে না। প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় ট্রাম্প যা করেছেন, তা ভয়ঙ্কর। তাই আমি মনে করি, প্রত্যেক মার্কিনির জানা উচিত সেখানে আসলে কী ঘটেছিল। কেন ট্রাম্পকে এই অভিযোগের মুখে পড়তে হলো এবং কেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা জরুরি। কেন তাকে ভবিষ্যতে আর সরকারের কোনো পদে বসানো ঠিক না।

রাস্কিন আরো বলেন, আমরা চাই, ভবিষ্যতে ট্রাম্প যেন আমেরিকার গণতন্ত্রে কোনো আঘাত হানতে না পারেন। যাতে ভবিষ্যতে এই পরিণামের কথা ভেবে আর কেউই আমেরিকার সংবিধান বা গণতন্ত্রের ওপর আঘাত করার কথা না ভাবেন। রিপাবলিকানরা সাবেক প্রেসিডেন্টকে অভিশংসিত করার পক্ষে নন। কারণ এটা করলে ভবিষ্যতে যে কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টকে তার কর্মের জন্য দায়ী করে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালানো যাবে। ডেমোক্র্যাটরা বিতর্কে সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল এমন যুক্তি উপস্থাপন করেছিলেন।