রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ক্রিকেটারদের মাঝে পেশাদারিত্বের অভাব দেখছেন দুর্জয়

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২০:৪১

১২১ টেস্ট ম্যাচ খেলে ১৪টি ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডকে হারানোয়। এখন আর এগুলো চলে না। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হয়ে দেশের ক্রিকেট সমালোচনা মুখর। খেলায় হারজিত আছে। কিন্তু বাংলার ক্রিকেটারেরা যেভাবে খেলে হেরে গেলেন তা বিসিবির বস নাজমুল হাসান পাপন থেকে শুরু করে দেশের সাধারণ ক্রিকেট অনুরাগীরাও মেনে নিতে পারছেন না। 

বিশ বছরের বেশি সময় ধরে টেস্ট আঙ্গিনার অভিজাত পরিবারে ঠাঁই পাওয়া বাংলাদেশের এমন লজ্জার হার যেন কল্পনাও করছেন না কেউ। অধিনায়ক মুমিনুল হক তো বলেই ফেললেন ২০ বছরে সেভাবে কোনো উন্নতিই হয়নি। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান মুশফিক, লিটন, তামিম, মিঠুন, মুমিনুলদের খেলা দেখে রেগে আগুন। কোচ অধিনায়ক ম্যানেজমেন্টর উপরও ক্ষেপেছেন।

সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রত্যেক ম্যাচের আগে সেশন বাই সেশন একটা ষ্ট্র্যাটেজি বলেন, প্ল্যান বলেন, কোঅর্ডিনেশন বলেন, কিছুই ছিল না। যে যার মতো খেলে চলে আসছে। আমার কথা হচ্ছে একজন অলরাউন্ডারকে নেয়ার পথ বন্ধ করে ৫ জন পেসার রাখা হলো। ২ জনও খেলল না। তাহলে নিলাম কেন।’ 

সভাপতি এতো সহজেই হাল ছেড়ে দেবার পাত্র নন। কোথায় সমস্যা? কি হচ্ছে, কেন হচ্ছে, নিজেই ময়নাতদন্ত করে সব প্রশ্নের জবাব খুঁজবেন বিসিবি বস। 

মাঠের পারফরম্যান্সে ক্রিকেটারদের এমন দুরাবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ বিসিবির পরিচালক নাইমুর রহমান দুর্জয়। রবিবার মিরপুরের মাঠে বাংলাদেশের খেলার শেষ হওয়ার পরই ক্রিকেটারদের সম্পর্কে বোমা ফাটিয়েছেন এই সাবেক অধিনায়ক। খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চার দিনের ম্যাচও ছিল। বিসিবি চেয়েছিল ক্রিকেটাররা টেস্টের আগে চারদিনের ম্যাচ খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নিক। কিন্তু খেলোয়াড়দের আপত্তির কারণে সেটি বাতিল করতে হয়। 

দুর্জয় বলেন, ‘সিরিজটাকে টার্গেট করে দুইটা চারদিনের ম্যাচ রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে ম্যাচের সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। অনেকেই খেলতে চাচ্ছিল না। সেটার কারণ হিসাবে আমাদেরকে দেখানো হল বেশি দিন বায়োবাবলে থাকলে হয়ত মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে যাবে। এজন্য খেলতে চাচ্ছিল না।

আমরা যখনই ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটের আয়োজন করি তখনই প্লেয়ারদের যত পারসোনাল এনেগজমেন্ট থাকে, পারসোনাল ইন্টারেস্টগুলো সামনে আসে, পারসোনাল এন্ডোজমেন্ট থাকে। শুটিং, ফিজিক্যাল চেকআপ আছেই।’ দুর্জয় প্রশ্ন তোলেন এগুলো এই সময় হবে কেন ? এই সব কাজ দেখিয়ে প্লেয়াররা ছুটি নেয়। দুর্জয় বললেন,‘অনেক প্লেয়ারকে দেখা গেছে ছুটিটা কাজে লাগিয়ে তারা বেড়াতে বিদেশে গিয়েছে। আমি মনে করি এখানে জাতীয় স্বার্থটাকে ছোট করে দেখানো হয়েছে।’ 

ইত্তেফাক/এসআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন