মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরা শহরের পলি ক্লিনিকে নার্স দিয়ে গৃহবধূ তনু বেগমের শরীরে অস্ত্রোপচারের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করেছে মাগুরা সিভিল সার্জন।
বুধবার তদন্ত টিম এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের ৩ সদস্য, ক্লিনিক মালিকসহ একাধিক ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে।
মাগুরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান জানান, একটি লিখিত অভিযোগপত্র ভুক্তভোগী তনু বেগমের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক মাগুরা সিভিল সার্জন ডাক্তার মুন্সী ছাদুল্লাহর কাছে দাখিল করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সিভিল সার্জন ডাক্তার মুন্সী ছাদুল্লাহ রবিবার মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মোহাম্মদ শফিউর রহমান, একই হাসপাতালের অপর দুই চিকিত্সক ডা. শামসুন্নাহার লাইজু, ডা. সুব্রত কুমার বিশ্বাসকে নিয়ে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করেন। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ভুক্তভোগী পরিবারসহ সংশ্লিষ্টদের দেওয়া হয়। যার প্রেক্ষিতে তদন্ত টিম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ভুক্তভোগী তনু বেগমের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক, ননদ নাদিয়া সুলতানা বেলা, প্রতিবেশী সালমা বেগমের মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছেন। এছাড়া ক্লিনিক মালিক ডাক্তার মোক্তাদুর রহমানের বক্তব্য নিয়েছেন তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হবে।
প্রসঙ্গত, মাগুরা সদর উপজেলার আবালপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী তনু বেগম জরায়ু টিউমারে আক্রান্ত হয়ে দালালের মাধ্যমে গত ১৪ জানুয়ারি মাগুরা শহরের পলি ক্লিনিকে ভর্তি হন। ক্লিনিক মালিক ডা. মোক্তাদুর রহমান নিজে উপস্থিত না থেকে ক্লিনিকের দুইজন নার্সের ওপর অস্ত্রোপচারের ভার দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগিরা। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বুঝতে পেরে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন না করেই তড়িঘড়ি তনু বেগমকে ফরিদপুরে পাঠিয়ে দেন। তনু বেগম এখন ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন।
