হাওর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করার নির্দেশ

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৫

সিলেট অফিস ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ জেলার ১১টি উপজেলায় বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ নির্ধারিত সময় অর্থাত্ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করতে স্থানীয়ভাবে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে কাজের মনিটরিং চলছে। অন্যদিকে সরকারে উচ্চপর্যায় থেকেও তাগাদা দেয়া হচ্ছে। বাঁধ নির্মাণে কোনোরূপ অনিয়ম-দুর্নীতি, গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে  ফসল রক্ষা বাঁধে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রকৌশলী মোঃ মিজানুল হক ভূইয়া গত মঙ্গলবার ইত্তেফাককে বলেন, বিভিন্ন কারণে কাজ শুরু করতে একটু দেরি হলেও আমরা নির্ধারিত সময় কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ভাটির এই জেলার দুই লক্ষাধিক হেক্টর জমির বোরো ফসল অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে। উল্লেখ্য, বোরোই এই জনপদের প্রধান ফসল। বিগত ২০১৬ সালে হাওর রক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলার সমুদয় ফসল তলিয়ে গেলে বিপর্যয় দেখা দেয়।

এদিকে, গত সোমবার সুনামগঞ্জসহ কয়েকটি হাওর জেলার বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে ভিডিও কনফারেন্সে কাজের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবীর বিন আনোয়ার। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পুলিশ, নাগরিক সমাজ, কৃষক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ সুধীজন এসময় উপস্থিত ছিলেন। সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন হাওরের কাবিটা প্রকল্পের আওতায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। এসময় হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ, মনিটরিং ও বাস্তবায়ন কমিটির সংশ্লিষ্টরা কাজের অগ্রগতি সমপর্কে মন্ত্রণালয়কে অবগত করেন।

সচিব কবীর বিন আনোয়ার বলেন, হাতে সময় একেবারেই কম। হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ সমপন্নে সবাইকে মাঠে যেতে হবে। অফিসে বসে থাকলে চলবে না। প্রয়োজনে অফিসকে মাঠে নিয়ে যেতে হবে। সচিব বলেন, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পিআইসি গঠন সংক্রান্ত কাজে কোনো রাজনৈতিক চাপ থাকলে তাকে যেন সঙ্গে সঙ্গে জানানো হয় এবং দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন।

সূত্রমতে, জেলার বিভিন্ন হাওরে বাঁধ নির্মাণ করতে ৫৫৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) করা হয়েছে। এবার হাওরে পানি শুকাতে বিলম্ব ও জাতীয় নির্বাচনের কারণে যথাসময়ে পিআইসি গঠন না হওয়ায় মোট পিআইসি’র ৩৩২টিতে কাজ শুরু হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে বাকিগুলোতে কাজ শুরু হবে জানান কর্মকর্তারা। এদিকে সুনামগঞ্জের দিরাই ও শাল্লা হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে ওঠা অনিয়মের সত্যতা যাচাইয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শাল্লায় মঙ্গলবার জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিরাইয়েও সভা করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা কাবিটা বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল আহাদ  বলেন, হাওরের বাঁধ নির্মাণে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

সভায় সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তাহমিদুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এমরান আহমদও উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইত্তেফাককে বলেন, ‘তারপরও অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’