স্পোর্টস রিপোর্টার
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে চিটাগং ভাইকিংস বা মুশফিকুর রহিম; কেউ সেভাবে সেরাদের আলোচনায় ছিল না। দলটিকে মনে করা হচ্ছিল মাঝারি শক্তির। আর মুশফিক শত পারফরম্যান্স সত্ত্বেও আরও একবার ‘মিডিওকোর’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন। সেই মুশফিক ও তার দল চিটাগংই এখন বিপিএলের সেরা দলে পরিণত হয়েছে।
আগের ম্যাচে হট ফেবারিট ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারানোর পর চিটাগং গতকাল ৬ উইকেটে হারালো রাজশাহী কিংসকে। এই জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে উঠে এলো তারা শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ১০ পয়েন্টের মালিক ঢাকা ও কুমিল্লার চেয়ে চিটাগং এক ম্যাচ কম খেলেছে!
অন্য দিকে চিটাগংয়ের অধিনায়ক মুশফিকের ব্যাটে রানবন্যা অব্যাহত আছে। চার ম্যাচের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো পঞ্চাশ পার করা ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
আগে ব্যাট করা রাজশাহী কিংস ৫ উইকেটে ১৫৭ রান তুলতে পেরেছিল। জবাবে ২ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছায় চিটাগং।
যদিও রান তাড়া করতে গিয়ে চিটাগংয়ের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ৬ রানে প্রথম এবং ৩০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় তারা। এর মধ্যে আরাফাত সানি এক ওভারে তুলে নেন ২ উইকেট। আর এখান থেকে নাজিবুল্লাহ জাদরান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে সঙ্গে নিয়ে জয় তুলে আনেন মুশফিক।
প্রথমে নাজিবুল্লাহর সঙ্গে ৪১ রানের একটি জুটি করেন মুশফিক। নাজিবুল্লাহ ১৯ বলে ২৩ রান করে আউট হন। আরাফাত সানি তৃতীয় উইকেট হিসেবে তুলে নেন এই আফগানকে। এরপর সৈকতের সঙ্গে অপরাজিত ৮৮ রানের জুটি করেন মুশফিক।
শেষ ওভারে ৪ রান দরকার ছিল জয়ের জন্য। তৃতীয় বলে বাউন্ডারি মেরে সৈকত খেলা শেষ করে দেন। তিনি ২৬ বলে ৪৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন। অন্য প্রান্তে মুশফিক ৪৬ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন।
মুশফিকের সর্বশেষ ৫টি বিপিএল ইনিংস হলো—৩৪, ৭৫, ৫২, ২২ ও ৬৪*!
এর আগে প্রথমে ব্যাট করা রাজশাহীকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে টেনে তোলেন লরি ইভান্স। মাত্র ৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ইভান্স ও টেন ডেশকাট ৫২ রানের জুটি করেন। সৌম্য ও মার্শাল ফিরে আসেন দ্রুত। এরপর ডেশকাট ২৮ রান করেন। ডেশকাট আউট হওয়ার পরপরই ৫ রান করে ফেরেন জাকির হাসান। এরপর ইভান্স ও জোঙ্কার চেষ্টা করেন রাজশাহীকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে। ইভান্স টানা দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৫৬ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭৪ রান করে আউট হন তিনি। অন্য দিকে জোঙ্কার ২০ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। এই ম্যাচে আবার নিচের দিকে ব্যাট করতে নামা মেহেদী হাসান মিরাজ ৪ বলে ১০ রান করে অপরাজিত ছিলেন।
