মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে কমিটি
রিয়াদ হোসেন
ব্যবসা সহজ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক ও ভ্যাটের আধুনিকায়ন তথা প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ চলমান রয়েছে। তা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমেনি, বরং কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও ম্যানুয়াল বা প্রচলিত ব্যবস্থা থেকে সরে আসছে না কাস্টমস তথা রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে ব্যবসায়ে সহায়ক না হয়ে বরং প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও।
একইভাবে ভুয়া ট্রেড ইউনিয়নের নামে হয়রানির অভিযোগও উঠেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন শ্রম দপ্তরের কিছু কর্মকর্তা ও একশ্রেণির শ্রমিক নেতার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভুয়া ট্রেড ইউনিয়নের আবেদন দেখিয়ে কারখানা মালিকদের কাছ থেকে অবৈধ উপায়ে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এ ধরনের বেশকিছু অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যবসায়ী নেতারা গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে এই ইস্যুতে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী এসব অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। বিষয়টি তদারকির জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঐ সভায় উপস্থিত এক ব্যবসায়ী নেতা ইত্তেফাককে বলেন, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা নেওয়া হচ্ছে; কিন্তু আবার ব্যবসায়ীকে সশরীরে ডাকা হচ্ছে। তাহলে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে লাভ কী? মূলত হয়রানির দুয়ার খোলা রাখতে এ ব্যবস্থা। এছাড়া আমদানি চালান অনলাইনে এন্ট্রি হয়, আবার রপ্তানির ক্ষেত্রে তা হয় না। ফলে হয়রানি হচ্ছে। কেবল শুল্ক ভ্যাট নয়, অন্যান্য জায়গায়ও একই অবস্থা হচ্ছে। এটি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে, তারা বিক্ষুব্ধ।
তিনি বলেন, কিছু লোক বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করছে। তাদের সংখ্যা খুবই কম। যে অনিয়ম হচ্ছে, খোঁজ নিলে দেখা যাবে, তাতে সংশ্লিষ্ট শুল্ক কর্মকর্তারও যোগসাজশ রয়েছে। এটিকে পুঁজি করে সব আমদানিকারককে হয়রানি করা হচ্ছে। অথচ কর্মকর্তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। একইভাবে পণ্য পরীক্ষা শেষে খালাসের প্রাক্কালে গোয়েন্দা কর্তৃক ফের পরীক্ষা করা, অপ্রয়োজনীয় কেমিক্যাল টেস্টসহ ঘাটে ঘাটে বিড়ম্বনায় ফেলা হচ্ছে। তারা ব্যবসায়ের সহায়ক না হয়ে বরং বাধা সৃষ্টি করছেন। অথচ সরকারের লক্ষ্য হলো ব্যবসাসহায়ক পরিবেশ তৈরি করা।
তিনি বলেন, শ্রম দপ্তর সিন্ডিকেট করে ভুয়া ট্রেড ইউনিয়ন তৈরি করে কারখানা মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে। সবগুলো বিষয় আমরা প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনেছি। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। এজন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠনের কথা হয়েছে। আশা করছি—এর ফলে প্রতিকার মিলবে।
ঐ সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি টিপু মুনশি, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ও বর্তমান সহসভাপতি এবং ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি। যোগাযোগ করা হলে সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার পর হয়রানি কমার কথা; কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে এবং মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে চলে গেছে। আমরা ইস্যুটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি।
