আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল সারাজীবনের কাজে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেছিলেন। গানে গানে যিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য জানালা খুলে দিতে বলেছিলেন। তাকে হূদয়ের জানালা খুলে ভালোবাসা জানাতে এসেছিলেন সর্বস্তরের মানুষ। সর্বস্তরের শ্রদ্ধায়, ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন দেশবরেণ্য গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। প্রথমেই তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হয়। বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে তাকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হয়। এরপরই সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। সেখানে শ্রদ্ধা জানানো শেষে তার মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে। বাদ জোহর তার প্রথম নামাজে জানাজা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বিএফডিসি প্রাঙ্গণে। সেখানে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা হয়। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বরেণ্য এ শিল্পীর লাশ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। মঙ্গলবার ভোররাত ৪টায় রাজধানীর আফতাবনগরে নিজ বাসভবনে মারা যান আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ পর্ব। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিলের নেতৃত্বে দলীয় নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সহকারী সামরিক সচিব ইফতেখারুল আলম। এছাড়াও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়- বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ, ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুল, এলআরবি, ইতালি আওয়ামী লীগ, ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ, ওয়ার্কার্স পার্টি, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, জাসাস, অ্যাডাব, উদীচী, বাংলাদেশ বাউল একাডেমি ফাউন্ডেশন, স্রোত আবৃত্তি সংসদ, বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ, দেশ টিভি, আনন ফাউন্ডেশন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, আজিমপুরের গেরিলাবাহিনী সজীব গ্রুপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, শিশু ঐক্যজোট, গণ সংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ, জাতীয় কবিতা পরিষদ, শিশু একাডেমি, প্রাচ্যনাট, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক পরিষদ, বাংলাদেশ বেতার, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, গণশিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, সমস্বর, বাংলার ঢোল, পরম্পরা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সদস্যরা, বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, অভিনয় শিল্পী সংঘ, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর প্রভৃতি।
যারা শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌশলী গোলাম আরিফ টিপু, শংকর সাঁওজাল, শিল্পী সুমনা হক, শফিক তুহিন, ম. হামিদ, এস ডি রুবেল, শুভ্র দেব, রিজিয়া পারভীন, শাহেদ, ফুয়াদ নাসের বাবু প্রমুখ। ইমতিয়াজ আহমেদ বুলবুলের ছেলে সামির আহমেদ বলেন, পরিবারের দাবি ছিল মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের। প্রধানমন্ত্রী সে দাবি পূরণ করেছেন, এর জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা।
গুণীজনদের কথায় আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তাঁর চলে যাওয়া এ দেশের জন্য বড় ক্ষতি। তাঁর সকল সৃষ্টিকর্ম সরকারের পক্ষ থেকে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ হবে। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, তাঁর মৃত্যুতে শুধু দেশের সঙ্গীতাঙ্গন নয়, সমগ্র জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হলো। তাঁর সৃজনকর্ম সংরক্ষণের জন্য যা যা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তা তাঁর মন্ত্রণালয় নেবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল শুধু গানের জন্য নয় দেশের প্রতি যে অবিস্মরণীয় ভালোবাসা দেখিয়েছেন তা ভোলার নয়। সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, সংগীত সম্পর্কে আধুনিক চিন্তা-ভাবনা ছিল তাঁর। বরেণ্য গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, তিনি চলে গেলেন কিন্তু তাঁকে মূল্যায়ন সম্মান করার দায়িত্ব আমাদের, রাষ্ট্রের। শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আমি ভাগ্যবান বুলবুল ভাইয়ের ভালো গান গাইবার সুযোগ পেয়েছি। তিনি পৃথিবীর নিয়মে চলে গেছেন কিন্তু আমাদের হূদয়ে মানুষের হূদয়ে বেঁচে থাকবেন চিরকাল। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বলেন, মহান সংগীতকার হিসেবে তিনি ইতিহাসের পাতায় স্থায়ী আসন নিয়ে বেঁচে থাকবেন। এছাড়া আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল সম্পর্কে নানা বিষয়ে মূল্যায়ন করে মন্তব্য করেন সংগীতশিল্পী খুরশিদ আলম, কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর, কুমার বিশ্বজিত্, সামিনা চৌধুরী, মনির খান।
