শিল্পকলায় যুগপূর্তি জাতীয় আয়োজন
ইত্তেফাক রিপোর্ট
শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে দশ দিনব্যাপী যুগপূর্তি জাতীয় পিঠা উত্সব ১৪২৫। পিঠার নাম শুনলেই জিভে জল আসে না, এমন বাঙালি পাওয়া যাবে না। পিঠা বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদিও শহুরে সংস্কৃতিতে পিঠার অবস্থান খুব নগণ্য। বিভিন্ন স্টলে বার্গার-পিত্জার জোয়ারে হারিয়েই গেছে পিঠা। কিন্তু তারপরও শীত এলেই পিঠার স্মৃতি মনের ভেতরে নাড়া দিয়ে যায় না, এমন বাঙালি পাওয়া যাবে না। পিঠা খাওয়ার টানে শীতে গ্রামে যাওয়ার রেওয়াজ ছিল প্রায় প্রতিটি পরিবারে। গ্রামীণ নারীদের সেই নান্দনিক পরিবেশনা আমাদের সংস্কৃতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সেই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে শিল্পকলা একাডেমি ও জাতীয় পিঠা উত্সব উদযাপন পরিষদ যুগপূর্তি জাতীয় পিঠা উত্সব আয়োজন করেছে।
একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় পিঠা উত্সবের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান, নৃত্যগুরু আমানুল হক, বরেণ্য চিত্রশিল্পী সমরজিত্ রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পিঠা উত্সব উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি ম. হামিদ এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় পিঠা উত্সব উদ্যাপন পরিষদের সদস্য সচিব খন্দকার শাহ্ আলম।
উত্সব অঙ্গনে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পিঠাপ্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাটক, নৃত্য, অবৃত্তি, সংগীত, কৌতুক, যাদু প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে। পিঠাপ্রেমীদের আমন্ত্রণ, সপরিবারে আসুন বাঙালির পিঠা নিয়ে আয়োজিত অনন্য উত্সবে। পিঠা উত্সব শুরু হয় ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাসে। ধীরে ধীরে এই উত্সব বাংলাদেশের শিল্প সংস্কৃতিক আঙ্গনের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
