মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আবারও চীনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি চীনকে সতর্ক করে বলেছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দেশটিকে মূল্য দিতে হবে। আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সিএনএনে সম্প্রচারিত এক টাউন হল অনুষ্ঠানে চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাইডেন বলেন, চীনকে এর জন্য মূল্য দিতে হবে। চীন তার কাজের ফল পাবে এবং তিনি (চীনা প্রেসিডেন্ট) এটা জানেন। তিনি বলেন, বিশ্বে মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক ভূমিকায় ফিরে আসবে। এ সময় আন্তর্জাতিক সম্প্র্রদায়কে চীনের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, চীন বৈশ্বিক নেতা হতে চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তাদের এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি চীনের অন্যায় বাণিজ্য নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ জানান। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগামী জুলাই নাগাদ সব মার্কিনির জন্য করোনা ভাইরাসের টিকা নিশ্চিত করা হবে। আগামী বড়দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভক্তি, বর্ণ বৈষম্য, বিচার বৈষম্য, অভিবাসন, পররাষ্ট্রনীতি, অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস, অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরেন বাইডেন। তিনি বলেন, ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলারের করোনা রিলিফ প্যাকেজ পাশ হলে এক বছরে ৭০ লাখ মার্কিনির কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। অনুষ্ঠানে তিনি জানান, হোয়াইট হাউজে অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন।
দক্ষিণ চীন সাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র
চীন নিয়ে বাইডেন প্রশাসনের কড়া অবস্থানের মধ্যেই বুধবার দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ এলাকার কাছে নোঙর ফেলেছে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ। বিরোধপূর্ণ ঐ এলাকায় ১২ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় বার মার্কিন জাহাজ নোঙর ফেলেছে। সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগরে অবাধ চলাচল বজায় রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। এজন্য বাইডেন প্রশাসন তত্পর।
ইইউর বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার চীন
চীন গত বছর যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, করোনা মহামারির কারণে ইউরোপের প্রধান প্রধান বাণিজ্য অংশীদাররা চাপে পড়ায় চীন ইইউর সঙ্গে ব্যবসা বিস্তৃত করার সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। ২০২০ সালে চীন ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের; একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপের আমদানি-রপ্তানি ছিল ৬৭ হাজার কোটি ডলারের সামান্য বেশি। মহামারির কারণে গত বছরের প্রথম তিন মাসে চীনের অর্থনীতি খানিকটা সংকুচিত হলেও পরের দিকে দেশটি ঐ সংকট কাঠিয়ে ওঠে। বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র চীনই ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধির মুখ দেখেছে।
