অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:২৬

জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তার চিন্তা ও কর্ম দিয়ে বাঙালি সমাজকে আধুনিক মূল্যবোধ ও স্বদেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করেছেন। মানুষের মনে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বাতি জ্বালিয়েছেন। মৌলবাদ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ যে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ক্লান্তিহীনভাবে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজেকে তিনি সম্পৃক্ত রেখেছিলেন। আমাদের ভাষাচর্চার ক্ষেত্রে, গদ্যবিকাশের পর্বে, ব্যাকরণ ও প্রকাশ পদ্ধতির ক্ষেত্রে তার অসামান্য গবেষণা আমাদের দিকনির্দেশক হয়ে উঠেছে। বাঙালির গৌরব, বাংলাদেশের উজ্জ্বলতম অহংকার যে মুক্তিযুদ্ধ, সেখানেও ছিল তার উজ্জ্বল উপস্থিতি।

আজ জন্মদিনে জীবনীগ্রন্থ আনিসুজ্জামানের প্রকাশনা-উত্সব

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ৮৫তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে স্টুডেন্ট ওয়েজ প্রকাশ করেছে প্রাবন্ধিক-গবেষক এম আবদুল আলীম রচিত জীবনীগ্রন্থ ‘আনিসুজ্জামান’। আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় পাঠক সমাবেশ কেন্দ্র, শাহবাগ, ঢাকায় এই গ্রন্থের প্রকাশনা উত্সবের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের জীবনসঙ্গী সিদ্দিকা জামান। বিশেষ অতিথি থাকবেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিত্ ঘোষ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। আলোচনায় অংশ নেবেন গবেষক তাশরিক-ই-হাবিব, কবি ওবায়েদ আকাশ এবং কবি-প্রাবন্ধিক পিয়াস মজিদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন গ্রন্থকার ড. এম আবদুল আলীম ও স্টুডেন্ট ওয়েজ-এর প্রকাশক মোহাম্মদ লিয়াকতউল্লাহ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান গত বছরের ১৪ মে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুসের সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।

সংক্ষিপ্ত জীবনী ও সম্মাননা : আনিসুজ্জামানের জন্ম ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক আনিসুজ্জামান দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রিধারী এই শিক্ষাবিদ গবেষণা করেছেন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়েও। গবেষণা গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি অনুবাদ ও সম্পাদনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে কাজের জন্য ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও ১৯৮৫ সালে একুশে পদক পান এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুজিবনগর সরকারের অংশ ছিলেন তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ভাষা আন্দোলন, রবীন্দ্র উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলন, রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী আন্দোলন এবং ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন।

তার বাবার নাম এ টি এম মোয়াজ্জেম। তিনি ছিলেন বিখ্যাত হোমিও চিকিত্সক। মা সৈয়দা খাতুন, গৃহিণী হলেও লেখালেখির অভ্যাস ছিল। পিতামহ শেখ আবদুর রহিম ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক। আনিসুজ্জামানরা ছিলেন পাঁচ ভাই-বোন। শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে ভারত সরকার তাদের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ পদক প্রদান করে। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তাকে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করে। এছাড়া তিনি ১৯৯৩ ও ২০১৭ সালে দুইবার আনন্দবাজার পত্রিকার ‘আনন্দ পুরস্কার’, ২০০৫ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট ডিগ্রি এবং ২০১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী পদক লাভ করেন। ২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়।