আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। পূর্বে নির্ধারিত বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম থাকছেন নাকি অন্য কেউ মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন— তা নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। তবে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনের মতোই জয়ের ধারাবাহিকতা চায় আওয়ামী লীগ। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মেয়র আনিসুল হক মারা যাওয়ায় গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি এ উপ-নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। একই বছর ১৬ জানুয়ারি আতিকুল ইসলামকে দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। আতিকুল প্রচারণাও চালিয়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল।
আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিতরণ গতকাল বুধবার থেকে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর) উপ-নির্বাচন, পৌরসভা (৩টি) ও ইউনিয়ন পরিষদ (৩০টি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিতরণ কার্যক্রম চলছে। ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২৫ জানুয়ারি বিকাল ৫টার মধ্যে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে।
এদিকে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এক যৌথসভা আগামী ২৬ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের এই যৌথসভায় উল্লিখিত নির্বাচনগুলোতে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাত্কার গ্রহণ শেষে সর্বসম্মতিক্রমে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। জানা গেছে, ২০১৭ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনের সময় আতিকুল ইসলাম ছাড়াও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম, ঢাকা মহানগরী উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি ঢাকা-১১ আসনের এমপি এ কে এম রহমতুল্লাহ, ঢাকা-৯ আসনের এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক প্রমুখ।
গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপ-নির্বাচন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী কে হবেন, তা জানা যাবে আগামী শনিবার। একইসঙ্গে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে পুনঃনির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী ঠিক করবে আওয়ামী লীগ। মেয়র পদে আগের প্রার্থী থাকবেন কিনা, সে সিদ্ধান্ত মনোনয়ন বোর্ডেই নেওয়া হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পরিবারে কেউ যোগ্য থাকলে তিনি মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে সবকিছুর আগে যোগ্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তিরাই মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন।
অপরদিকে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের পুনঃনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ করেছেন প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সহোদর মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম। গতকাল ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলামের পক্ষে এ মনোনয়নের আবেদনপত্র সংগ্রহ করেন প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ব্যক্তিগত সহকারী তোফাজ্জল হোসেন।
উল্লেখ্য, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত ৩ জানুয়ারি ব্যাংককে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছাড়াও আরো ১০ নেতা আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছিলেন। তারা হলেন— সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দুই সহোদর মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ সাফায়েতুল ইসলাম ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুক্তিযোদ্ধা ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই অ্যাডভোকেট সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম টিটু, রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের মেজো ছেলে রাসেল আহমেদ তুহিন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সম্পাদক কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ুন, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ সাদী, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ (স্বাচিপ) কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি ডা. দীন মোহাম্মদ, কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ গোলশান আরা বেগম এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পাঠাগার সম্পাদক অধ্যক্ষ এম এ হান্নান। সৈয়দ আশরাফকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও বিকল্প প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ রেখেছিল মশিউর রহমান হুমায়ুনকে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর প্রার্থীর তালিকা প্রেরণ
এদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি প্যানেল তৈরির জন্য ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্যদের নিয়ে সভা হবে। সভায় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কমপক্ষে তিনজনের একটি প্যানেল সুপারিশ করা হবে।
