ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা আবেদনের শর্ত বেড়েছে বেড়েছে ভর্তি ফিও

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:৩৭

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে অনলাইনের মাধ্যমে প্রার্থীদের ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর তারিখ আগামী ৮ মার্চ থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে। ঐদিন বিকাল ৪টা থেকে ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ৩১ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত চলমান থাকবে। এর মধ্যে ভর্তি-ইচ্ছুকরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। অনলাইনে আবেদন শেষে সরকারি ব্যাংকগুলোর যে কোনো শাখায় ১ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে টাকা জমা দিতে হবে। এ বছরের ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তি-ইচ্ছুকদের জিপিএর শর্ত বাড়ানো হয়েছে। ইউনিটভিত্তিক এবার দশমিক ৫ থেকে ১ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এবারের ভর্তি ফি ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের বছর ছিল ৪৫০ টাকা।

গতকাল বৃহস্পতিবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তিবিষয়ক সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২১ মে, ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২২ মে, ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২৭ মে, ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ২৮ মে এবং ‘চ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা (সাধারণ জ্ঞান) ৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি ইউনিটের পরীক্ষা ঢাকাসহ আটটি বিভাগীয় শহরে সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

সভার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বর্ধিত ভর্তি ফির কথা উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, অন্যান্য বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার মধ্যে আশপাশের কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষা হতো। এবার ঢাকার বাইরে কেন্দ্র পড়ায় ভর্তি পরীক্ষার খরচ কিছুটা বেড়েছে। ডিনবৃন্দ পর্যালোচনা করে ভর্তি ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। 

বেড়েছে আবেদনের শর্ত

এছাড়াও ইউনিটভিত্তিক আবেদনের ন্যূনতম শর্তও বাড়ানো হয়েছে। করোনার কারণে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ শর্ত বাড়ানো হয়েছে। জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভর্তি-ইচ্ছুক আবেদনকারীদের ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে ‘ক’ ইউনিটের জন্য মাধ্যমিক ও সমমান এবং উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় (৪র্থ বিষয়সহ) প্রাপ্ত জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮.৫ (আলাদাভাবে জিপিএ-৩.৫), ‘খ’ ইউনিটের জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮.০ (আলাদাভাবে ৩.০), ‘গ’ ইউনিটের জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮.০ (আলাদাভাবে ৩.৫), ‘ঘ’ ইউনিটের জন্য মানবিক শাখার ক্ষেত্রে জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮.০ (আলাদাভাবে ৩.০) ও বিজ্ঞান শাখার ক্ষেত্রে জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৮.৫ (আলাদাভাবে ৩.৫) এবং ‘চ’ ইউনিটের জন্য জিপিএ-দ্বয়ের যোগফল ন্যূনতম ৭.০ (আলাদাভাবে জিপিএ-৩.০) থাকতে হবে। 

আবেদনে পূর্বের শর্ত বহালের দাবি ভর্তি-ইচ্ছুকদের

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আবেদনে পূর্বের শর্ত বহালের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বরাবর দেওয়া এক স্মারকলিপিতে তারা এ দাবি জানান। তবে উপাচার্যের সঙ্গে তাদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। শিক্ষার্থীরা বলেন, করোনার জন্য অটো প্রমোশনের কারণে এসএসসিতে ভালো ফল না থাকায় এইচএসসিতেও ভালো ফল হয়নি। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আমাদের প্রস্তুতি ভালো ছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের পয়েন্ট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। যদি আবেদনকারীকে পূর্বনির্ধারিত জিপিএ পয়েন্ট বাদ দিয়ে নতুন জিপিএ পয়েন্ট ধরা হয় তাহলে আমাদের ভবিষ্যত্ হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ফল পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সবকিছু বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি পরিবর্তনের সুযোগ নেই।  

পরীক্ষা পদ্ধতি

সভায় ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ ও ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কেবল ‘চ’ ইউনিটের পরীক্ষায় ৪০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ৬০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ ও ‘ঘ’ ইউনিটের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ‘চ’ ইউনিটের এমসিকিউ পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ভর্তি-সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা ও তথ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট https://admission.eis.du.ac.bd এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিগিগরই জানিয়ে দেওয়া হবে।