গাজীপুরে তিন ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:১২

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাইমাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন ইটভাটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও অনুমোদন না থাকায় বুধবার দুপুরে ইটাভাটা তিনটি ভেঙে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস। এ সময় ওই তিন ইটভাটা মালিককে ৫০ হাজার করে দেড় লাখ টাকা জরিমানা ও ইট তৈরির বিভিন্ন মালামাল ধ্বংস করা হয়।

জানা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ডের বাইমাইল এলাকার পর্বত অটো ব্রিকস, এসএম ব্রিকস ও এমএসসি ব্রিকস পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ও ছাড়পত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটা পরিচালনা করছিল। বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর ভাটা তিনটিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়ে অভিযান চালায়। ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ইটভাটা তিনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে গভীর গর্ত করে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগে ওই এলাকায় একটি ভেকু (মাটি কাটার মেশিন) ভেঙে ফেলা হয়।

অভিযান চলাকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের গাজীপুরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুস সালাম সরকার, গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. জাকারিয়া খান সাথে ছিলেন।  

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস ও গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুস সালাম সরকার জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ১৯০টি ইটভাটা রয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় কোনো ধরনের ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করার নিয়ম নেই। এসব ইটভাটাকে ২০১৪ সালে অন্য কোনো জায়গায় স্থানান্তর করতে বলা হয়েছিল; কিন্তু অনেক ইটভাটা এখনো সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সাভার থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০), ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০১৮ অনুযায়ী ইটভাটার অবস্থান গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ ব্যতিত অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনার দায়ে মঙ্গলবার ঢাকার ধামরাই উপজেলার চারটি ইটভাটাকে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ইটভাটাসমূহ হচ্ছে— মেসার্স দিপ্তী সেমি সজল ব্রিকস, মেসার্স মামুন ব্রিকস, মেসার্স এমবিএম ব্রিকস ও মেসার্স মা ব্রিকস অ্যান্ড কম্পানি। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন ঢাকার পরিবেশ অধিদপ্তরের সদর দপ্তর মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং-এর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ। তাঁকে সহযোগিতা করেন মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইং-এর  সহকারী পরিচালক সালমান চৌধুরী শাওন, ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন। অভিযানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করে ধামরাই থানা পুলিশ। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমেদ জানান, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।