অণুগল্প

‘বয় করে’

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:৪৮

 

এক মাস আগে সড়কে কার্পেটিং করার পর আজ সকালে যখন রমিজের টকটকে লাল মোরগাটা একটি পোকার অনুসন্ধান করে সড়কে ঠোকর দিয়ে চলটা উঠিয়ে ফেলল ঠিক তখনই ক্ষুব্ধ রুবেলের চিত্কার-চেঁচামেচিতে গ্রামের লোকজনও জড়ো হয়; বিস্ময়ে সমবেত জনতার চোখের আয়তন বেড়ে যায় এবং হায় হায় করতে থাকে—এই কী সড়ক বানাইলো কনটেকদার হাসান?

ক্ষুব্ধ রুবেল সড়কের অবস্থা দেখাতে থাকে মানুষকে আর অশ্লীল শব্দে হাসানকে গালিগালাজ করতে থাকে। কয়দিন অইলো পিচ দিল, কয় দিন অইলো সড়ক পাক্কা অইলো? এক মাসও তো অয় নাই।

সমবেত জনতাও ক্ষুব্ধ।

এই সময় কন্ট্রাক্টর হাসান এই পথ দিয়ে উপজেলা সদরে যাচ্ছিল মোটরবাইকে। সমবেত জনতাকে দেখে মোটরবাইকের গতি থামিয়ে নিজেও বাইক থেকে নামে।

সড়ক পাকা করতে মালমসলা কম দেওয়াতে সড়কটা এক মাসের মধ্যে ভেঙে যাচ্ছে, বর্ষায় তো সমস্ত কার্পেটিং শেষ হয়ে যাবে...তর্কের ভ্রূণ এখান থেকেই অঙ্কুরিত হয়ে ক্রমান্বয়ে বৃক্ষ হয়ে ওঠে। সমবেত জনতা রুবেলের পাশে দাঁড়ায়। তারা সবাই প্রতিবাদ করতে থাকে। এক সময় রুবেল বলল, আরে ভাই আপনে তো গলা পর্যন্ত দুর্নীতিতে ডুইবা আছেন। আপনের শরীর থাইক্যা দুর্গন্ধ বাইর অইতাছে।

রুবেলের কথায় সমবেত জনতা হো হো করে হেসে ওঠে এবং ভিড় থেকে একজন বলল, ‘বয় করে। বয় করে।’

ঘটনা এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু সমবেত জনতা সবাই নাক চেপে ধরে বিকৃত উচ্চারণে বলতে শুরু করে ‘বয় করে, বয় করে।’

রাগে, ক্ষোভে, দুঃখে হাসান অতি দ্রুত মোটরবাইক নিয়ে সটকে পড়ে। তার শরীর থেকে ঘাম ঝরছে। উত্তেজনায় ফেটে পড়ছে।

এখানেই ঘটনা শেষ হতে পারত। কিন্তু তা হয়নি। এই ‘বয় করে’ শব্দটি ক্রমে উপজেলা সদরেও চাউর হয়ে যায় ঐ পাড়ার আসলাম সদরে আসার পর। হাসানকে দেখেই মানুষ নাক চেপে ধরে বিকৃত মুখে তাকায় তার দিকে। হাসান রাগে ক্ষোভে ভেতরে ভেতরে ফেটে পড়ে। কিন্তু কিছুই বলতে পারে না, প্রতিবাদ তো দূরের কথা। ঘটনা এমন পর্যায়ে গেল যে, হাসান বাড়ি থেকে বের হলেই দুষ্টু লোকগুলো নাক চেপে ধরে, যা সাধারণত মানুষ কোনো দুর্গন্ধ পেলে করে। ঘটনা এখানেই শেষ হতে পারত। কিন্তু তা হয়নি...

নাক চেপে ধরা এবং ‘বয় করে’ কথাটি হাসানকে ছাড়িয়ে উপজেলা সদরের ঘুষখোর অফিসারদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ শুরু হতে থাকে ব্যাপকভাবে। গত মাসে দুজন অফিসার এই উপজেলা থেকে বদলি হয়েছেন। শোনা যাচ্ছে বদলির কাফেলায় আরো কয়েকজন আছেন...