জুয়েল মাজহার
আমার রয়েছে দুটি হাত
এই দু‘টি হাত দিয়ে আমি খাদ্য কুড়াই, খাইদাই
কাগজে নিজের নাম লিখি
আমার শিশ্নকে আমি রমণসুখের কাজে ব্যবহার করি;
মাঝেমাঝে একে আমি অতিব্যক্তিগত মৃগয়ায়,
আত্মরতিচূর্ণ শিকারে নিয়ে চলি;
আমার ভেতরে এক পারদের হাঁস
নগ্ন ক্ষপণক হয়ে ঘোর নাচ নাচে
আমার তাঁবুটি ক্রমে ফুলেফেঁপে ওঠে
আমার তাঁবুটি ফেটে নাগালের বাইরে উড়ে যায়
আমার শ্রবণে বাজে তাঁবু ফাটা ফরফর ধ্বনি;
অনুরণনের ঢেউ আছড়ে পড়ে আমার দু‘কানে
বুনো ঘোড়াদের চিঁহি আমি একা বসে শুনি;
কথা, হাসি, আর অবিরাম পাতা ঝরার শব্দে,
গান ও কুহুর পর হঠাত্-বিস্ফোরণের গিমিকে,
ঝুম কাওয়ালি আর তলাফাটা জাহাজের ভেঁপুতে ভরে আছে আমার দু‘কান
আমি একই সঙ্গে উত্কর্ণ ও বধির!
আমার গলায় গমগম। আমার ঠোঁটে কথার খই
কখনো হরবোলা আমি; কখনোবা নির্বাক, মূক
আমার জিভ কখনো মধুপ্রলেপক,
কখনো তা কথার বিষে ঠাসা
তবে তা অব্যর্থ
তবে তা স্টিং-রে ফিশের লেজ দিয়ে বানানো রক্তসফল সপাং চাবুক
কিন্তু আমার জোড়া চোখ?
তারা আত্মবৈরী!
তারা আমাকে দিয়েছে কেবল তিতিক্ষা আর অচরিতার্থতার গ্লানি;
বলিরেখাময় কপালের নিচে
কোটরবন্দি আমার চোখেরা অথর্ব অথর্ব অথর্ব ;
অপূর্ণতার যমজ কলঙ্ক হয়ে ঝুলছে তারা
আমার চোখেরা সবই দেখতে পায়
তারা সবকিছু দেখায় আমাকে
অথচ তারা কোনোদিন আমাকে আমার
নিজের চেহারা দেখতে দেয়নি
নিজের সুরত দেখার জন্য আমাকে প্রতিদিনই
একটি আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে হয়
আয়নার ভেতরে তাকিয়ে আমি যাকে দেখতে পাই,
যে আমার দিকে আইবল-টু-আইবল তাকায়,
সে কি আমি, নাকি অন্য কেউ?
