নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানার সামনে শনিবার সকালে হরতালের সমর্থনে ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চত্বর থেকে থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ মিছিলে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুছ, বসুরহাট পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক গোলাম ছারওয়ার, বসুরহাট পৌরসভা কৃষক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান শাহীনসহ অন্তত ৪৫ জন আহত হন। আহতদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি এবং বাকিদেরকে উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিত্সা দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ বসুরহাট রূপালী চত্বরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে চেয়ার, টেবিল, মঞ্চ, জেনারেটর ও মাইক ভাঙচুর করে।
এদিকে গতকাল নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘন্টাখানেক পর আবার তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। গতকাল রাত ৯ টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এ.এইচ.এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম জানান, আবদুল কাদের মির্জার অব্যাহতির সিদ্ধান্ত আমরা দিতে পারি না। বিষয়টি আমাদের দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেখবেন।
এর আগে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় রূপালী চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে আবদুল কাদের মির্জা বলেন, কোম্পানীগঞ্জসহ নোয়াখালী ও ফেনীতে অপরাজনীতি চলছে। সর্বত্র টেন্ডারবাজি, অনিয়ম, চাকরি বাণিজ্য, সালিশ বাণিজ্য চলছে, এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমি কথা বলায় প্রতিনিয়ত আমার ও আমার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা হচ্ছে। তিনি বলেন, তথাকথিত এমপি একরামুল করিম চৌধুরী ও নিজাম হাজারী কোম্পানীগঞ্জে অস্ত্র সরবরাহ করছে, অস্ত্রধারীরা কোম্পানীগঞ্জের দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থান করছে। যেকোন মুহূর্তে তারা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটাতে পারে।
আবদুল কাদের মির্জা শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা দিলেও ডিগ্রি পরীক্ষার পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে হরতাল শিথিল করে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আনেন।
তিনি বলেন, ‘সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব বেলায়েত বিএনপি করেন, তার আরেক ভাই চৌমুহনী এস. এ. কলেজের অধ্যক্ষ, অপর ভাই ভোট ডাকাতি করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আরেক ভাই প্রভাব খাটিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হতে চায়। ভিসিকে রাজি করাতে পারছেন না। মন্ত্রীর এপিএস মহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল মতিনরা তদবিরবাজি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। মন্ত্রীর পিআরও আবু নাছের আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করার জন্য বলেছেন। নোয়খালীর ডিসি বিএনপি করে, এসপি জামায়াত করে, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি জাহেদুল হক রনি ও ওসি (তদন্ত) রবিউল হক একরামের পা চাটা কুকুর। শুক্রবার একরামের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসী ও কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ একসঙ্গে হয়ে চাপরাশিরহাট বাজারে আমার দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি করে। বহু নেতাকর্মী এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খিজির হায়াত খান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী মাদক সম্রাট সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সঙ্গে একত্র হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। না হলে বাদলেরা এত সাহস কোথা থেকে পায়।
তিনি আগামীকাল ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চত্বর থেকে বসুরহাট বাজার পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন।
এদিকে শনিবার দুপুর ১২টায় উপজেলা চরকাঁকড়া ইউনিয়নের রাস্তামাথায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাগিনা ফখরুল ইসলাম রাহাত, মাহবুব রশিদ মঞ্জু, মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরী শাহীন প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে বাদল বলেন, ‘মেয়র আবদুল কাদের মির্জা উচ্চাবিলাসী, হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের নামে দেশ-বিদেশে পালিয়ে থাকা বিএনপি-জামায়াত নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে বৈঠক করেন এবং তারেক রহমানের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ভবিষ্যতে নোয়াখালী-৫ নির্বাচনি এলাকায় মওদুদ আহমদের অবর্তমানে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিশ্চিত করার শর্তে সমঝোতার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছেন।’ সম্মেলনে বাদল আগামীকাল ২২ ফেব্রুয়ারি রূপালী চত্বরে জনসভার ডাক দিয়েছেন।
