চুড়িহাট্টা ট্রাজেডির দুই বছর

ক্ষোভ, হতাশা নিয়ে নিহতদের স্মরণ

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২২:৩৫

ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে নিহতদের স্মরণ করেছে চুড়িহাট্টার মানুষ। অনেকেই স্বজনদের হারিয়ে এখনো দিশাহারা। দুই বছর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়িহাট্টায় রাসায়নিক গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হয়। ঐ ঘটনায় নিহত হন ৭১ জন। ঐ ৭১ জনের মধ্যে ছিলেন অপু ও আলী। দুই সন্তানকে হারানো মা ষাটোর্ধ্ব তারামনি গতকাল শনিবার চুড়িহাট্টায় এসে বলছিলেন, ‘এই দুইটা ছেলেই আমাকে দেখে রাখত। ওরা চলে যাওয়ায় আজ আমি দিশাহারা। ছেলের বউরা আমার খোঁজ রাখে না। চিকিত্সা বাবদ যে খরচ হয়, তা জোগাতে পারি না। আজ যে সহযোগিতা করা হলো, তা ছেলের বউরা পেল। আমি কী করব ভেবে পাচ্ছি না।’

গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে চুড়িহাট্টায় গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে ২০ জনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজি সেলিম। এ সময় তার দুই ছেলে কামাল উদ্দিন ও সোলায়মান সেলিম সেখানে ছিলেন। সেখানেই এসব কথা বলেন মা তারামনি।

কামাল উদ্দিন বলেন, ‘দুঃখের বিষয় হলো এই দুই বছরেও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি। দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে হাজি সেলিম সহযোগিতা করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমরা এই এলাকায় কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স দিচ্ছি না।’

হাজি সেলিম কথা বলতে না পারায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তার ছোট ছেলে সোলায়মান সেলিম। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন ২০টি পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এই সহযোগিতা দেওয়া হবে। এই এলাকায় এখনো কারা কেমিক্যাল ব্যবসা করছে, তা আমরা চিহ্নিত করতে পারছি না। তবে এখানে হাজি সেলিম সাহেব কাউকেই কেমিক্যাল ব্যবসা করতে দেবেন না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কবে নাগাদ এই ব্যবসা এখান থেকে সরানো যাবে, তা তিনি বলতে পারছেন না।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানান। কয়েক জন অভিযোগ করলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটির তত্কালীন মেয়র সাঈদ খোকন ক্ষতিগ্রস্তদের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যারা চাকরি পেয়েছেন, তারা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে অস্থায়ী নিয়োগ পেয়েছেন। এমনই একজন নূর নবী। অগ্নিকাণ্ডে তার বাবা মারা যান। তিনি বলেন, ‘আমরা তো পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরির জন্য পড়ালেখা করিনি।’ নূর নবী ও অন্যরা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির দাবি জানান।