কোম্পানিগঞ্জে গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক বোরহান মারা গেছেন

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:২৯

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সমর্থক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির (২৫) মারা গেছেন। গতকাল শনিবার রাত পোনে ১১টার দিকে তিনি ঢাকা মেডিক্যালে হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) বাচ্চু মিয়া। এরআগে গতকাল শুক্রবার দিনগত রাত পৌনে ১টার দিকে আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিত্সক ডা. আলাউদ্দীন জানান, শুক্রবার দিনগত রাতে বোরহান উদ্দিনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরপরই তার অবস্থা খারাপ হতে থাকায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। তার গলায় ছররাগুলির আঘাত ছিল।

নিহত বোরহান উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার পত্রিকার কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি ছিলেন। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকা পাঠানো হয়।

এর আগে, বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশিরহাট তরকারি বাজারের সামনে সংঘর্ষের সময় সাংবাদিক মুজাক্কির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন।

স্থানীয়রা জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা বৃহস্পতিবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল অভিযোগ করেন যে, আবদুল কাদের তার ভাই সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন। এ অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশিরহাট বাজারে শুক্রবার বিকালে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন বাদল। 

পরে বাদলের অনুসারীরা চাপরাশিরহাট বাজারে মিছিল করতে গেলে আবদুল কাদের মির্জার সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আবদুল কাদের মির্জা এলে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয় এবং তারা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় সাংবাদিক বোরহানসহ তিন জন গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া আহত হন দুই পক্ষের অন্তত ৩০ জন। আহতদের মধ্যে সাত জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।