উত্পলকান্তি বড়ুয়া
পেরিয়ে এসে গাঁয়ের সবুজ মেঠোপথের বাঁক
হাত দু’খানা সামনে তুলে পৌষ দিয়েছে ডাক।
সে ডাক শুনে ভেসে আসে সাইবেরিয়ার পাখি
ঘাসের বুকে রুপালি রঙ-শিশির মাখামাখি।
মাঘ দু’হাতে শীত মেয়েকে জড়িয়ে বসায় ঘরে
হিমেল ডানায় ভর করে সব গাছের পাতা ঝরে।
রঙ-কুয়াশার চাদরখানা জড়িয়ে দিয়ে গাঁয়
পৌষ আর মাঘ ঠাণ্ডা পুকুর-নদীতে সাঁতরায়।
ভোরের দুয়ার মেলে দিয়ে দিন খোলে তার চোখ
ব্যস্ত যে যার আপন কাজে পাড়ার সকল লোক।
লকলকে সেই লাউয়ের আগা মাচানটা দেয় পাড়ি
সরষে খেতে বিছানো ঠিক মায়ের হলুদ শাড়ি।
গাছির কাঁধে রসের হাঁড়ি চুলোয় গরম পিঠা
বিজন দুপুর রোদের বেলা একলা পোহায় ভিটা।
নরোম বিকেল সহসা হয় সাঁঝের কোলে কাত
নাড়ার ধোঁয়ায় ধল কুয়াশার চাদর ঢাকা রাত।
শুকনো হাওয়ায় মন টান টান ছড়িয়ে হিমের জাল
পৌষ আর মাঘ যাপন করে আপন শীতের কাল।
