যে রাতে আমার স্ত্রী

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৩৫

আন্দালিব রাশদী

যে রাতে আমার স্ত্রী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিল সে রাতটা আমার কেমন কাটার কথা?

গুঞ্জন শুরু হয়েছিল শবনম মেহনাজ চিশতিকে নিয়ে। অন্তত দু’টি দৈনিক ও তিনটি ট্যাবলেয়েড সম্ভাব্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে শবনমের নাম আছে। তার ছবিও ছেপেছে এবং লিখেছে যদিও তার মাতৃকুলে একজন পাকিন্তানপন্থি নেতা ছিলেন তবুও তাঁর খুঁটির জোর খুবই শক্ত।

শবনম নিজেও ভেবেছে, ব্যাপারটা ঘটতেও তো পারে।

আমিও ভাবি, জীবনে দু’একবার মন্ত্রী হওয়া দোষের কিছু নয়।

মন্ত্রীদের নাম ঘোষণার সপ্তাহখানেক আগে শবনম বেশ কড়া স্বরে আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, স্যুটটা বানাতে তোমাকে অন্তত সাতবার বলেছি। কাপড়টা এখনো আলমারিতে পড়ে আছে। তোমার গায়ের চামড়া এত মোটা কেন?

আমি বলি, ভালো করে শীত নামুক তখন না হয় বানাবো। অবশ্য আজকাল তো তেমন শীতও নামে না। স্যুট পরলে গরম লাগে, অস্বস্তিও। তাছাড়া আমার আবদুল আবদুল চেহারাটা ঠিক স্যুটের সাথে যায় না। মানে স্যুট করে না।

শবনম বলল, বড় আপু তোমার সম্পর্কে কী ভাববে? সেলাইর পাঁচ হাজার টাকাও তো আমার হাতে গুঁজে দিয়ে গেছে। সাথে সাথে আমি টাকাটাও তোমার হাতে দিয়ে বলেছি, প্লিজ একটা ভালো দোকান থেকে স্যুটটা বানাও।

তুমি কি বলতে চাও আমি টাকাটা মেরে খেয়েছি?

স্যুট পিস দিয়েছে লায়লা তাবাসসুম চিশতি, শবনমের বড় আপু। সুইডেন থেকে ফেরার পথে দুবাই থেকে কেনা।

শবনম বলল, এখন কী আর করবে, তোমার পুরোনো স্যুটটাই লন্ড্রিতে দিয়ে এসো।

স্যুটের কী দরকার?

যদি বঙ্গভবনে যাবার ডাক পড়ে তোমাকে যেতে হবে না! আমি যে শপথ নিচ্ছি তোমাকে তার চাক্ষুষ সাক্ষী হতে হবে না?

চাক্ষুষ সাক্ষী মানে কী? শবনমকে জিজ্ঞেস করি। আমার মেজাজ ধীরে ধীরে চড়ে যাচ্ছে।

শবনম ঠাণ্ডা মাথায় বলল, যে সাক্ষী নিজের চোখে দেখেছে।

আমি বললাম, চাক্ষুষ সাক্ষী কি খুব গুরুত্বপূর্ণ?

অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ১৮৭২-এর সাক্ষ্য আইন পড়োনি?

এস বি রহিমের নোটবই কেটে এলএলবি পাস করেছি। আইনের আসল বই খুলেও দেখিনি। তাছাড়া উকিল কিংবা হাকিম হবো এটাও কখনো ভাবিনি। অনেকেই এলএলবি পরীক্ষা দেয়, আমিও দিয়েছি। এলএলবি’র কারণেই শবনম আমাকে আইনের কথা শোনায়।

আমি বললাম, তার মানে আমি যদি চাক্ষুষ সাক্ষী না হই তাহলে মহামান্য প্রেসিডেন্ট তোমাকে শপথ পাঠ করাতে রাজি হবেন না— তুমি কি এরকম একটা কিছুই বোঝাতে চাইছো?

শবনম বলল, তোমাকে তা বোঝাতে যাব কেন? আমি দেশ-বিদেশের অন্তত আধডজন নারীর নাম বলতে পারি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবার সময় যাঁরা বিধবা ছিলেন। আর একজন তো বিয়েই করেননি। কই, কোনো প্রেসিডেন্ট তো বলেননি, আপনার হাজব্যান্ড নেই, আমি দুঃখিত, বঙ্গভবনে হাজব্যান্ডসহ না এলে আমি শপথ পাঠ করাতে পারব না।

আমি বললাম, তার মানে তোমার কথাতেই স্পষ্ট হাজব্যান্ড কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই নয়। তাছাড়া থাই এয়ারের কাঠমান্ডু ক্র্যাশে আমার তো বাঁচার কোনো কথাই ছিল না। ক্রু আর প্যাসেঞ্জার ৯৩ জনের ৮৯ জনই যেখানে নিহত, আমার তো তাদেরই একজন হবার কথা ছিল। এটাই মিরাকল যে আমি চার জনের একজন।

শবনম ফোঁস করে উঠল, তুমি ৮৯ জনের একজন হলেই ভালো হতো। তুমি দিলে তো আমার মেজাজটা খারাপ করিয়ে। প্লেন ক্র্যাশে তুমি মরলে আমি স্ট্রেইট প্রেসিডেন্ট স্যারকে বলতে পারতাম, সরি স্যার, আমি উইডো।

আমি বললাম, দেখ শবনম, যেদিন তোমাদের শপথ হবে মহামান্য প্রেসিডেন্ট সাহেব এসব খেজুরে আলাপ করার সময়ই পাবেন না। এটা ঠিক প্রেসিডেন্টের কাজকর্মের ফিরিস্তি তো প্রধানমন্ত্রীর কাজের মতো এত বিশাল নয়। তবুও সেদিন তো ব্যস্ত থাকবেন। তুমি চিন্তা কোরো না। আমি তোমার চাক্ষুষ সাক্ষী না হই তাতে তোমার শপথ নেওয়া ঠেকে থাকবে না। সাক্ষ্য আইনের কথা বলছ, তুমি আমার মতো নোট বইয়ের পাতা কাটা এলএলবি নও, ঢাকা ইউনির্ভাসিটির এলএলবি অনার্স, এলএলএম সেটা তো আমার জানাই আছে। তাছাড়া  স্ত্রীর শপথে স্বামীর চাক্ষুষ সাক্ষ্যের গুরুত্ব নিয়ে কোথাও একটি শব্দও লেখা নেই।

শবনম বলল, তার মানে তুমি বঙ্গভবনে যাবে না? আমি জানতাম শেষ পর্যন্ত তুমি তা-ই করবে।

তাহলে সাধাসাধি করছো কেন?

শবনম বলল, তুমি ইতর! ছোটলোক! আমি মন্ত্রী হলে আমাকে তোমার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে, এটা তোমার সহ্য হচ্ছে না।

সহ্য হবে না কেন? একশ বার হবে। মার্গারেট থ্যাচার প্রধানমন্ত্রী হবার পর ডেনিস থেচার কি তা সহ্য করেননি, অবশ্যই করেছেন। অবশ্য ফিরোজ গান্ধীর কপালটা...

শবনম, সর্বশক্তি দিয়ে চিত্কার করে বলল, সাবধান। আর একটা কথাও বলবে না, এক্ষুনি আমার মাইগ্রেনের পেইন শুরু হবে।

আমি আর একটি কথাও বলব না। আমি চাই না শবনম মাইগ্রেনের ব্যথায় ভুগুক। আমার মাইগ্রেন নেই, তবুও আমি জানি, ব্যথাটা ভয়ঙ্কর। শবনমের বেলায় বমিও হয়, চোখে ঝাপসা দেখে।

আর যাতে কথা বলতে না হয় আমি বিনা প্রয়োজনে বাথরুমে ঢুকে পড়ি।

শবনম এখন বেরিয়ে যাবে। অনেক ব্যস্ততা তার। এর মধ্যে নিগোসিয়েটর হিসেবে শবনম দলীয় প্রধানের আস্থা অর্জন করেছে। মহিলা দলের ভেতর পুরোনো দলীয় কর্মী এবং কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সাথে আসা কর্মীদের বিরোধ সাময়িকভাবে হলেও শবনবই মিটিয়েছে।

পার্টি নিয়ে তার আঠার ঘণ্টার ব্যস্ততা। তার কোনো ডে অফ নেই। দু’একদিন না দেখলেই দলের প্রধান জিজ্ঞেস করেন, কী ব্যাপার, হাওয়া হয়ে গেলে নাকি?

গত নির্বাচনে শবনম নমিনেশন পায়নি তবে হাই কমান্ড থেকে এ ক্ষতি পুষিয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। সে জন্যই মন্ত্রী হবার গুজবটা উঠেছিল।

তারও আগে শবনম খোলাখুলিই বলল, তুমি আমার সাথে যে রকম শীতল আচরণ করছ যা বলার স্পষ্ট করে বলে দিলেই পারো।

বললাম, কিন্তু আমি তা কেন বলতে যাব, কিন্তু তোমার স্বাধীনতা যেন আমার জন্য যন্ত্রণার কারণ না হয়।

শবনম বলল, তুমি জেলাস, আমার বড় হওয়াটা তুমি সহ্য করতে পারছ না।

আমি বললাম, বেশ তো, তোমার বড় হওয়াটা আমার চেয়ে বেশি যে সহ্য করতে পারে তার কাছেই চলে যাও।

শবনম আমাকে আরো একবার ছোটলোক বলে গাল দিল এবং বলল, আরো আগেই তোমাকে ছেড়ে যাওয়া উচিত ছিল।

শবনম সে যাত্রা শপথের ডাক পায়নি।

 

দুই.

আমার এই আবদুল খালেক নামটা নিয়ে পাত্রীদের প্রায় সবারই আপত্তি ছিল। নাদেরার বাবার একজন কুঁজো ও তোতলা নাপিত ছিল— আবদুল খালেক নাম। ছোটোবেলায় তাকে ডেকে এনে নাদেরাদের তিন বোনের মাথা ন্যাড়া করা হতো। আমার নামটা শুনলে কিংবা আমাকে দেখলেই নাদেরার সেই কুঁজো আবদুল খালেক নাপিতের কথা মনে হয়। এরপর প্রস্তাব নিয়ে এগোবার মানে নেই। শবনমের মহত্ত্বের এই কথাটুকু আমাকে স্বীকার করতেই হবে, আমার আবদুল খালেক নাম নিয়ে তার কোনো এলার্জি সৃষ্টি হয়নি।

তবুও আমাদের দূরত্ব আরো বাড়ল, আমাদের শারীরিক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল। এমনকি পরোক্ষ কথাও প্রায় শূন্যে নেমে এল।

ডিভোর্স নোটিশের পর নব্বই দিন পার হতে আরো তিন দিন বাকি। তারপরই এটা চূড়ান্ত হবে।

আমরা না-স্বামী না-স্ত্রী এমন একটা ট্র্যানজিশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।

তখনই আর একটা রিশাফলিং হলো। বিভিন্ন কারণে পাঁচ জন বাদ পড়লেন, পাঁচ জন ঢুকলেন। শবনম মেহনাজ চিশতি তাদের একজন।

আমি বেসরকারি কলেজে অর্থনীতি পড়াই। আমাদের প্রিন্সিপাল ডক্টর হুদাল্লিল মুত্তাকিন ভুয়া পিএইচডি— এরকম একটি প্রচারণা আছে। একবার তিনি খবরও হয়েছিলেন: থিসিসের দেখা নেই, আছে কেবল ডক্টরেট।

বিদ্যার কোনো দ্যুতি তার দেখিনি, সোনায় বাঁধানো উপরের পাটির একটি দাঁত কখনো কখনো চকচক করে উঠতে দেখেছি। তিনি শিক্ষক সমিতির প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন, ঘোষণা দিয়েছেন।

শপথ অনুষ্ঠানে যাবার নিমন্ত্রণ পেয়েছি। শবনমের একটি চিঠিও—তুমি থাকলে আমি খুশি হব।

বঙ্গভবনের নিমন্ত্রণপত্র খুলে দেখি ড্রেস কোড : ফর্মাল, ব্র্যাকেটে আনুষ্ঠানিক। এর মানে কি স্যুটট্যুট পরতে হবে?

আমি না যাবার কারণ পেয়ে গেছি। এটা কি হরিপ্রসাদ চুরাশিয়ার বাঁশি শোনার অনুষ্ঠান? এটা কি রুশ বিপ্লব নিয়ে আলোচনার অনুষ্ঠান? এটা কি ওস্তাদ আল্লা রাখার তবলাবাদন? আমি পছন্দ করি বা না করি এটা কি কোনো কোনো ওয়াজ মাহফিল? যদি তা না হয় আমি কেন যাব?

ঘুম একটু দেরিকেই ভাঙল। কলেজে ঢুকতেই মনে হলো গোটা কলেজ যেন আমাকে বড় একটা সংবর্ধনা দেবার জন্য জেগে উঠেছে।

ভাইস প্রিন্সিপাল আমার সামনে খবরের কাগজ মেলে ধরলেন : দু’জন মন্ত্রী ও তিন জন প্রতিমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ, ছয় জন মন্ত্রীর দপ্তর অদল-বদল।

প্রতিমন্ত্রী একজন মহিলা, নাম, সেই নাম দেখে আমিও বিস্মিত হই, শবনম আবদুল খালেক।

এ কী কাণ্ড! এটা কোন ধরনের পাগলামি!

প্রিন্সিপাল স্যার রুম ছেড়ে এসে আমাকে বললেন, কংগ্র্যাচুলেশন। ভাইস প্রিন্সিপাল তাঁকে বললেন, দেখেন স্যার, পতিভক্তি কাকে বলে। এই মেয়ে জানে, বেহেশত কোথায়। আবদুল খালেকের মতো একটা নামের পুরোটাই নিজের নামের সঙ্গে নিয়ে নিয়েছে।

প্রিন্সিপাল জিজ্ঞেস করলেন, আগে কী নাম ছিল?

ভাইস প্রিন্সিপাল বললেন, বলো বলো, তোমার বিবিজানের নাম আগে কী ছিল?

আমি বললাম, শবনম মেহনাজ চিশতি।

প্রিন্সিপাল স্যার বললেন, আর এখন শবনম আবদুল খালেক। আলহামদুলিল্লাহ সতী নারীর গুণে পতিও বেহেশতে যায় আবদুল খালেক। তুমি ভাগ্যবান। আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠ রেহানা ম্যাডাম খবরের কাগজের ভেতরের পাতা খুলে দেখান, এই দেখুন স্ত্রীর সঙ্গে আমাদের আবদুল খালেকও। এটা কি বিয়ের সময়কার ছবি নাকি?

প্রিন্সিপালের রুমে টিএন্ডটি নম্বরে শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি সাহেবের ফোন আসে। তিনি মাননীয় নতুন প্রতিমন্ত্রীর স্বামী আবদুল খালেক সাহেবের সঙ্গে কথা বলতে চান।

আমি যখন ফোন ধরি প্রিন্সিপাল স্যার ফিস ফিস করে বলেন, আমার কথা একটু বলবে।

ডিজি সাহেব আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তিনিও একজন শিক্ষক, তিনিও ইকোনোমিক্স পড়াতেন। তাঁর স্ত্রী একটি সরকারি মহিলা কলেজের লাইব্রেরিয়ান। তিনি বলেন, আবদুল খালেক সাহেব, আপনি অনেক ভাগ্যবান, আপনার স্ত্রী মন্ত্রী। কত বড় ব্যাপার!

আমি বলি, স্যার আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

তিনি বললেন, আমাদের নেক্সট প্রোগ্রামে আপনার স্ত্রীকেই চিফ গেস্ট করবো, আপনিও আসবেন।

রেহানা ম্যাডামের খুলে দেওয়া খবরের কাগজের পাতায় আবার চোখ পড়ে।

ফিজিক্সের আদিলা খাতুন বললেন, কী ভাই, বাচ্চাকাচ্চা নেবেন না? মন্ত্রী ম্যাডাম তো অনেক ইয়ং।

রেহানা ম্যাডাম আদিলা খাতুনকে ধমক দেন, তুমি কিসের নোংরা আলাপ শুরু করলে?

আদিলা খাতুন  বললেন, চটেন কেন আপা? হাজব্যান্ড আর ওয়াইফের মধ্যে ওই কাজটাই তো সম্পর্কের ভিত্তি।

কলেজের ছেলেমেয়েরা উঁকি দিয়ে মন্ত্রীর হাজব্যান্ড আবদুল খালেককে দেখে যাচ্ছে।

আমি বাজার অর্থনীতি সম্পর্কে একটি সাধারণ আলোচনা করে টিচার্স রুমে ফিরে আসি। ফার্স্ট ইয়ারের একটি মেয়ে জিজ্ঞেস করে, স্যার, আপনি নাকি মন্ত্রীর হাজব্যান্ড?

আমি চুপ করে থাকি।

নুসাইবা নামের সেই মেয়েটি বলল, এতদিন মন্ত্রীর ওয়াইফ দেখেছি, এই প্রথম মন্ত্রীর হাজব্যান্ড দেখলাম।

ফিলসফির সুলতান মাহমুদ আমাকে উদ্দেশ করেই সবার কাছে প্রশ্ন রাখল, এতে কি আবদুল খালেকের দাম বাড়ল না কমল?

সুলতান মাহমুদ জমিয়ে গল্প করতে পারে, আমিও তাকে পছন্দ করি। বলল, মার্গারেট থ্যাচার ব্রিটেনের প্রাইম মিনিস্টার হবার পর তার হাজব্যান্ড ডেনিস থ্যাচার একটা পাগলা গারদ পরিদর্শন করতে গেলেন। পাগলরা জিজ্ঞেস করল, আপনি কে?

তিনি বললেন, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেটের হাজব্যান্ড ডেনিস।

একজন পাগল বলল, ঠিকই আছে। যখন শিকের বাইরে ছিলাম আমিও নিজেকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর হাজব্যান্ড ভাবতাম। এ জন্যই তো শিকের ভেতরে ঢুকিয়ে দিল। আমার কথা শোনো ভাই ডেনিস, এসব উল্টোপাল্টা কথা বলো না, তাহলে তোমাকেও আমার মতন ঢুকিয়ে দেবে।

টিচার্স রুমের সবাই হো হো করে হেসে উঠল।

সুলতান মাহমুদ বলল, কিছুদিন অবজার্ভ করি, দেখি আমাদের আবদুল খালেক কোথায় থাকে, শিকের ভেতরে না বাইরে।