চয়ন

নীল পাহাড়ের গান

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:০০

 

রাত হলে দুনিয়ার সবাই ঘুমোয়। দিন হলো কাজের, আর রাত হলো বিশ্রামের সময়, ঘুমের সময়। গাছপালা, পাখপাখালি, বাড়িঘর, মানুষজন সবাই ঘুমোয়। কিন্তু বন ঘুমোয় না। বনের ভেতরে যে অন্ধকার থাকে সেই অন্ধকার ঘুমোয় না। কেমন নড়ে-চড়ে। অন্ধকারের ভেতরে যে কালো হিংসা চাপ চাপ হয়ে জমে আছে যুগযুগ ধরে, সেই হিংসা নড়ে-চড়ে গা-ঝাড়া দিয়ে ওঠে।

তখন হাওয়া বয়। ঘুমন্ত গাছের পাতায় পাতায় শব্দ করে বয়ে যায় বাতাস। দূর থেকে হায়নার চিত্কার ভেসে আসে। আর মরণ হেঁটে চলে। হিংস্র পশুর পায়ে পায়ে, নিঃসাড়ে মরণ চলাফেরা করে বেড়ায়।

মরণ কোথায়? না মরণ দেখো কখনো দাঁতাল শুয়োরের দাঁতে দাঁতে দোল খেয়ে উঠছে, কখনো সাপের ছোবলে বিদ্যুতের মতো চমকাচ্ছে, আবার কখনো দেখো হিংস্র পশুর থাবার নখে অথবা চোয়ালের দাঁতে ধারালো হয়ে ঝিকিমিকি করছে।

তাই রাত হলো অন্ধকারের, রাত হলো মরণের, রাত হলো হিংসার।

কিন্তু জ্যোত্স্নার রাত আবার অন্যরকম। তখন ঘুমন্ত দুনিয়ার বুকের ওপর যেন স্বপ্নের আলো ঝরতে থাকে। বনের অন্ধকার তখন হালকা আভায় ভরে যায়। তখন মরণ চলে আরো নিঃসাড়ে। গাছের আড়ালে আড়ালে, পাতার ফাঁকে ফাঁকে। টিলার ছায়ায় ছায়ায় তখন মরণ পা টিপে টিপে ফেরে। হিংসা তখন হয়ে ওঠে আরো কুটিল, আরো প্রবল। স্বপ্নের আলোর মধ্যে হিংসা আর মরণ তখন অন্ধকার হয়ে অল্প অল্প কাঁপে।     (অংশবিশেষ)

লেখকের ‘নীল পাহাড়ের গান’ (বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, ১৯৭৯) উপন্যাস থেকে