স্বার্থপর

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:৪১

মনে পড়ে না, পড়ার কথাও না

কবে, কীভাবে প্রথম আলো দেখেছি এই পৃথিবীর।

মনে পড়ে শুধু একটা মুখ—আমার মুখে কথা ফোটাতে

যে মুখ ছিল মুখরা মায়াভরা মধুঝরা।

শরতের শিউলির মতো শান্ত ছিল সে মুখ

আজও অবিকল মা তুমি তেমনই আছো।

ঘুমপাড়ানি মাসিপিসি গানের পরেও

চঞ্চল আর অশান্ত আমার ভারে

যখন নত হতো মা তোমার বাঁ কাঁধটা

তখনই জায়গা পেতাম তোমার শান্ত কোলে।

নরম হাতে ধরা চামচে দুধ ঢালতে তুমি আমার মুখে

সেই নরম হাত ধরেই হাঁটিহাঁটি পা পা

অনেক হোঁচট খেয়ে খেয়ে শিখেছি সোজা হয়ে দাঁড়াতে।

তারপরও আমার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সংগ্রামে

মায়ের কেটেছে কত বিনিদ্র রাত

কতদিন তাকে থাকতে হয়েছে অভুক্ত

ঘরে তো বড় অভাবও ছিল।

আজ সেই মুখর মুখ কেমন জানি ম্লান হয়ে গেছে

সারা শরীরের ঘুণে ধরা হাড়গুলো

মাকে আর সোজা দাঁড়িয়ে থাকতে দেয় না

তবু আজও আমার জন্মদিনের পায়েস মাকেই রাঁধতে হয়

কপালে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে করতে হয় আশীর্বাদ।

বাসা থেকে বেরোনোর সময় ‘আসছি’র উত্তরে

দরজা ধরে দাঁড়িয়ে থাকে মা

আর মুখ থেকে উচ্চারিত হয় ‘দুর্গা দুর্গা’।

মাঝে মাঝে ভাবতে ভালো লাগে, ভাবা উচিত

কিন্তু হাজার কাজের ভিড়ে সময় কোথায় মায়ের খবর নেওয়ার?

সেদিন রাত একটায় বাসায় ফেরার সময়

সিঁড়ির পাশে শুয়ে থাকা চেনা কুকুরটা হঠাত্ চেঁচিয়ে উঠল

মনে হলো আমাকে বলছে—তুমি বড় স্বার্থপর!