গিট্টুভূত ও মনফর আলী

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৯:৪২

আজও চান্দুমামার মন খারাপ। গিট্টু ভেবে পায় না। মামার মন এত ঘন ঘন খারাপ হয় কেন?

:আজ আবার কী হলো মামা?

:দারোয়ানকে নিয়ে আর পারছি না রে ভাগনে।]

চান্দুমামাদের এলাকায় এখন পানির খুব অভাব। ওয়াসার পাম্প থেকে লাইনে খুব কম পানি আসে। এদিকে সব বাড়িওয়ালা পাম্প দিয়ে লাইন থেকে পানি টেনে নিজেদের রিজার্ভার ভরে রাখে। ফলে পিছনের বাড়িগুলো পানি পায় না। চান্দু মামাদের সাবমার্সিবল পাম্প থাকায় রক্ষা। নিজেদের তো অবশ্যই এলাকার টিনশেড বাড়ি আর বস্তিগুলোর লোকজনদেরও চান্দুমামা সকালের একটা নির্দিষ্ট সময়ে খাবার পানি সরবরাহ করেন। কিন্তু দারোয়ান মনফর আলীর কাণ্ডে মামারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। সকাল এবং বিকালের নির্দিষ্ট সময়ে পাম্প ছাড়ার কথা। এবং এলাকার মানুষের জন্য খাবার পানি নেবার সময়ও নির্দিষ্ট। কিন্তু ফ্ল্যাট মালিকরা যখন বাইরে থাকেন তখন মনফর আলী সাবমার্সিবল ছেড়ে পানি বিক্রি করেন। কয়েকজন মালিকের কাছে ধরা পড়লেও তা তিনি স্বীকার করেননি। এখন ফ্ল্যাট মালিক কমিটি চান্দুমামাকে এটা সমাধানের দায়িত্ব দিয়েছেন। হুটহাট করে দারোয়ানও পালটানো যাচ্ছে না। চান্দুমামার টেনশনটা এই বিষয় নিয়েই।

বিষয়টা শুনে গিট্টু গম্ভীর হয়ে যায়।

: বুঝলেন মামা। ভূতদের এই সব ঝামেলা নাই। খাও দাও। মানুষকে ভয় দেখাও আর ঘুরে বেড়াও। কী মজা!

: তো আমরা তো ভূত নারে বাবা। আমাদের তো সমস্যা আছে। সমাধানও করতে হয়। নাকি?

: জি মামা, তবে আপনার চিন্তা শেষ। গিট্টু থাকলে সব সমস্যার সমাধান আছে। ভালো সমাধান। কাল থেকে দারোয়ানের পানি বিক্রি বন্ধ। এই ঘোষণা দিলাম মামা। আমি এবার বিদায় নেই মামা।

ফুস করে বাতাসে মিলিয়ে যায় গিট্টু।

 

২.

গভীর রাত। মনফর আলীর ঘরে ঢুকে মানুষের রূপ ধারণ করে গিট্টু। মনফর আলীর শোকেসের ওপর পা ঝুলিয়ে মনফর আলীকে ডাক দেয়—

: আঙ্কেল। মনফর আঙ্কেল।

মনফর আলীর ঘুম খুব গভীর নয়।

: এখন গেট খোলা যাবে না। সকালে এসো। ঘুমের ঘোরে জবাব দেয় মনফর আলী।

: না আঙ্কেল। গেট খুলতে হবে না। একটু চোখ খুলতে হবে। ঘুম ছুটে যায় মনফর আলীর।

: কে তুমি? ঢুকলে কীভাবে? ভীষণ অবাক মনফর আলী।

: শুনেন। মন দিয়া শুনেন। কাল থেকে পানি বিক্রি বন্ধ। টাইমের বাইরে এক মিনিটও পাম্প ছেড়ে রাখা যাবে না। মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হবে। না করলে ঘাড় মটকে রক্ত চুষে খাবো! বুঝা গেল। এবার দেখেন...

মনফর আলী তাকিয়ে দেখেন বাচ্চাটা ভয়ংকর একটা ভূতের রূপ ধরেছে। ছোট্ট একটা মুখের মধ্যে ধারালো সাদা দুটি দাঁত আর কালো চামড়া জড়ানো কাঠি কাঠি হাত পা। দুই চোখ থেকে যেন আগুন বের হচ্ছে। ভয়ংকর!

অজ্ঞান হতে বেশি দেরি হয় না মনফর আলীর।

অলংকরণ :সোহেল আশরাফ