দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত বাবা ও দুই সন্তান

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৫

খুলনার দাকোপের পানখালী ইউনিয়নে পাঁচ সদস্যের অতি দরিদ্র পরিবারের দুই শিশুসহ বাবা একই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে এখন মৃত্যু পথযাত্রী। টাকার অভাবে বিনা চিকিত্সায় প্রতিবন্ধী হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে তারা।

উপজেলার খাটাইল মধ্যপাড়া এলাকার ভ্যান চালক ঠাকুর দাস মন্ডলের একমাত্র ছেলে শিবপদ মন্ডলের (৩৯) তিন বছর বয়সে কান পিঠে টিউমারের মতো দেখা দেয়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে পিঠে ও হাতে পায়ে দেখা যায়। অর্থের অভাবে প্রথমে এলাকায় হোমিও চিকিত্সা নেয় পরে কলকাতার আর্জিকল হাসপাতালে চিকিত্সা করান। পুনরায় পাঁচ বছর ভারতে থেকে কলকাতায় পি ব্যানার্জির হোমিও চিকিত্সা নিয়ে হতাশ হয়ে দেশে ফিরে আসেন। এমতাবস্থায় শিবপদ এসএসসি পরীক্ষায় দেন এবং বিয়ের পর তার স্ত্রী রিতার গর্ভে এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। নাম তার শেজ্যোতি মন্ডল (১১)। বর্তমানে সে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। জন্মের তিন/চার মাস পর শেজ্যোতির কোমরে একই অবস্থা দেখা দেয় এবং পরে সারা পিঠে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে ছেলে সেতু মন্ডল (৮) জন্মের দুই মাস পর ওই একই রোগে আক্রান্ত হয়। দুই বছর আগে স্বামী সন্তান ফেলে স্ত্রী রিতা বাপের বাড়ি চলে যায়। বর্তমানে শিবপদ মন্ডলের সারা পিঠে বড় বড় টিউমারের মতো হয়ে মাঝে মাঝে নদীর ঢেউয়ের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এবং শরীরের সমস্ত শিরা কষে আসছে। সঠিকভাবে চলাফেরাও করতে পারছেন না। লাঠিতে ভর দিয়ে অনেক কষ্টে চলতে হয় তার। মেয়ে শেজ্যোতি ও ছেলে সেতুও ধীরে ধীরে একই অবস্থার দিকে যাচ্ছে। সহায় সম্পত্তি ভিটে বাড়ি ছাড়া কিছুই নাই তাদের। ভ্যান চালিয়ে শিবপদর বৃদ্ধ বাবা ঠাকুর দাস পরিবারের ব্যয়ভার বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোজাম্মেল হক নিজামী বলেন, শিবপদ নিউরোমাইক্রোমেটাসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে খুলনা শহীদ আবু নাসের হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে রেফার করা হয়েছে।

জীবন বাঁচাতে এখন দুই সন্তানসহ শিবপদ সরকার সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য কামনা করেছেন।