বাগাতিপাড়ায় হলুদের দাম না পেয়ে চাষিরা বিপাকে

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৮

বাগাতিপাড়া (নাটোর) সংবাদদাতা

বাগাতিপাড়ায় চলতি বছর হলুদের ফলন ভালো হলেও দাম না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। উত্পাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বিদেশ থেকে আমদানির কারণে হলুদের বাজারে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন চাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষিবিদরা।

উপজেলার তমালতলা, দয়ারামপুর বাজারে সরেজমিনে জানা গেছে, ওই বাজারে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন হলুদ কেনা-বেচা হয়। কাঁচা হলুদ বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ৪০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬৫০ টাকা দরে। চাষিরা বস্তা ধরে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও ভালো দাম না পেয়ে নিরুপায় হয়ে কম দামে বিক্রি করছে।

বিক্রেতা যোগীপাড়ার শাহজাহান জানান, তিনি গাঙ্গী জাতের হলুদ বিক্রি করেছেন মণপ্রতি ৪০০ টাকা দরে। নজরুল ইসলাম ধুলাউড়ি গ্রাম থেকে তমালতলা বাজারে এসেছিলেন হলুদ বিক্রি করতে। তিনি জানালেন, তার হলুদই ওই দিনের বাজারের সেরা ছিল। তাই সর্বোচ্চ ৬৫০ টাকা দরে ৬ মণ হলুদ বিক্রি করেছেন। কিন্তু তারপরেও তাতে তার লোকসান গুনতে হয়েছে। তিনি বললেন, বর্তমান বাজার দরে হলুদ বিক্রি করে উত্তোলন খরচ বাবদ শ্রমিকের মূল্য এবং বহন খরচ দিলে আর কিছুই থাকে না। বীজ, সারসহ রোপণ খরচ সব লোকসান। তাই তিনি সামনের বছর হলুদ চাষ ছেড়ে দিতে চান।

ওই বাজারে ৪০ বছর ধরে হলুদ বেচা-কেনার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী গালিমপুর গ্রামের খলিলুর রহমান জানান, বিদেশ থেকে হলুদ আমদানির কারণে বাজারে হলুদের দাম কমে গেছে। গত বছরের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হচ্ছে হলুদ।

উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এ উপজেলায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ফলন হয়েছে ৪ দশমিক ৩ মেট্রিক টন।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোমরেজ আলী বলেন, চলতি বছর মসলা জাতীয় হলুদ ফসলটির ফলন ভালো হয়েছে। তবে চাষিরা দাম পাচ্ছেন না বলে তাকে অনেকেই জানিয়েছে। গতবারের চেয়ে অর্ধেক দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। দামটা একটু বেশি হলে চাষিরা লাভবান হতেন এবং হলুদ চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ত।