চাষাবাদ শ্বেতচন্দন গাছ চাষে মুনাফা

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ২১:১৭

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

আমাদের দেশে শ্বেতচন্দন গাছের বেশ কদর রয়েছে। আদিকাল থেকেই শ্বেতচন্দন কাঠের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। চন্দন কাঠ একটি মহামূল্যবান সম্পদ। প্রতিকেজি চন্দন কাঠ ১৫ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। চন্দন কাঠ দিয়ে সুগন্ধি সাবান, আঁতর, তেল, প্রসাধন সামগ্রী তৈরি হয়ে থাকে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সত্কারের সময় চন্দন কাঠ ব্যবহার করে থাকে। অধিক দামি গাছ হওয়ার কারণে আমাদের অনেক উত্সাহি ব্যক্তি চন্দন গাছ চাষে এগিয়ে আসছেন। চন্দন গাছের চারা রোপণের ১০-১২ বছর অপেক্ষা করতে হয়। দুই ধরনের পদ্ধতিতে চন্দন গাছের চারা রোপণ করা যায়। প্রথমটি জৈব চাষ এবং দ্বিতীয়টি ঐতিহ্যবাহী উপায়ে। অন্যান্য গাছের তুলনায় চন্দন গাছ বেশ ব্যয় বহুল। চন্দন গাছের চারা প্রতিটি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দামের হয়ে থাকে।

আমাদের দেশের আবহাওয়া এবং মাটি চন্দন গাছ চাষের বেশ উপযোগী। শ্বেতচন্দন গাছ চাষ তেমন কোনো কষ্ঠকর ব্যাপার নয়। চারা রোপণের পর এটি স্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যাবে। ব্যাপক ভিত্তিতে চন্দন গাছের বাগান গড়ে তুলতে পারলে অধিক আর্থিক মুনাফা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। চন্দন গাছ চাষে তেমন বাড়তি কোনো খরচ পড়ে না। সেচের তেমন প্রয়োজন পড়ে না। চারা রোপণের প্রথম দুই বছর গাছের সামান্য যত্ন নিলেই চলে। তারপর আর তেমন যত্ন নিতে হয় না। চন্দন কাঠের দাম বেশি হওয়ায় আমাদের দেশের অনেক বাগান চাষি তাদের বাগানে শ্বেতচন্দন কাঠের গাছ রোপণ করেছেন। ধৈর্য্য ধরে ১৫-২০ বছর অপেক্ষা করার পর লাখ থেকে কোটি টাকা সহজেই আয় করা সম্ভব হবে। বিদেশেও চন্দন কাঠের বেশ কদর এবং চাহিদা রয়েছে। আমাদের দেশে যদি অধিক পরিমাণে চন্দন কাঠের উত্পাদন করা যায় তবে চন্দন কাঠ বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।