পথের খাবার

প্রিয় চুমুক

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:০৫

চায়ের কাপে প্রথম চুমুক দিয়ে ‘চা’ শব্দটি টাইপ করার মাধ্যমে লেখাটা শুরু করলাম! কারণ এই শব্দটি যখন যেভাবে আমার সামনে আসে কেমন একটা চা’র্মিং অনুভূতি খুঁজে পাই!

আমার চা যাত্রা কিভাবে শুরু হলো বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন সময়ে তা বলে বোঝানো যাবে না। স্ট্রাগলের সাথে যখন রীতিমতো যুদ্ধ চলছিল, পকেটের সাথে যখন হিসেবের বনিবনা হতো না তখন পকেটের তলায় শেষ নিঃশ্বাস ফেলতে থাকা টাকা-পয়সার বিনিময়ে খুব সহজে পেয়েছি এই চা! এই চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে নিজের সাথে নিজের আলাপচারিতার মধ্য দিয়েই জীবনের অনেক সমস্যার সমাধান বের করেছি! সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে বিদায় নিয়েছে, কিন্তু চা খাওয়ার এই প্রিয় বদভ্যাসটা আর বিদায় নেয়নি এবং আমিও আর দিইনি। সেই থেকেই চায়ের সাথে আমার চুমুক চুমুক পথচলা শুরু। এখন পর্যন্ত ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বেশকিছু জায়গার স্পেশাল চায়ে চুমুক দেওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।

খুব ঘন চা

গুলশান ১-এর পোস্ট অফিসের সাথেই। পাতিল ভর্তি চা নিয়ে এক দাঁড়িওয়ালা মামা সকাল ৮টা থেকেই ‘চা-যাত্রা’ শুরু করেন। ভোরে এসেই উনি চা বানানোর সকল উপাদানের দক্ষ প্রয়োগ করে চা আগে থেকেই বানিয়ে পাতিল ভরে রাখেন! এরপর চুলার ওপর বসিয়ে রাখেন আর খদ্দের এলেই চা বিক্রি করেন। ওনার চায়ের প্লাসপয়েন্ট হলো, খুব ঘন হয় এবং চিনির পরিমাণও পরিমাণমতো দেওয়া থাকে। প্রতি কাপ ১০ টাকা। গুলশানের অফিস পাড়ার লোকদের লাঞ্চয়ের পর চা আড্ডা দেওয়ার প্রিয় জায়গা এটা।

 

জলপাই রঙ চা!

খিলগাঁও বাগিচা মসজিদের পাশেই দোকানটা। শীত এলেই দোকানদার জলপাই রঙ চা বিক্রি শুরু করেন। টক আর মিষ্টির এক ধুন্ধুমার রোমান্স আপনার জিহ্বায় শুরু হবে যখন আপনি চুমুক দেবেন এই চায়ে! তবে এর পাশাপাশি কাজীর পুদিনা পাতার লেবুর চা-ও অসাধারণ। প্রতি কাপের দাম ৬ থেকে ১০ টাকা।

 

স্পেশাল এলাচি চা

তাজমহল রোডে একজন চাচী এলাচি চা বিক্রি করেন। ওনার চায়ের স্পেশালিটি হচ্ছে এলাচ। যারা এলাচ চা পছন্দ করেন তাদের এই চা ভালো লাগবে আশা করি। প্রতি কাপের দাম ১২ টাকা।

 

আদা-দুধ চা

চায়ের জন্য অন্যতম নাম করা হলো পান্থপথে হান্নানের চায়ের দোকান। লেবু ও পুদিনা পাতার রঙ চা, আর আদা-দুধ চা এখানকার বিখ্যাত আইটেম। হান্নানের চায়ের লিকারও হয় একেবারে পারফেক্ট। দোকানের কাছে গেলে এবং চায়ের কাপ মুখের কাছে নিলেই সুন্দর একটা ঘ্রাণ আসে লেবুর। আর চুমুক দিলেই ক্লান্তি সব শেষ! রঙ চা প্রতি কাপ ১০ টাকা, আর আদা-দুধ চা প্রতি কাপ ১২ টাকা।

 

লম্বা চায়ের লিস্ট!

মিরপুর ৬-এর সেলিম মামার এই চায়ের দোকান বেশ পুরোনো এবং ঐতিহ্যবাহী। গিয়ে দেখলাম আমার চেয়ে লম্বা চায়ের লিস্ট। মালাই চা আর রঙ চা পান করলাম। ওনার চা বানানোর হাত বেশ ভালো। যারা দুধে সর পছন্দ করেন না তারা মালাই চা খেয়ে মজা পাবেন না, বাকিরা পাবেন। রঙ চা খুব আহামরি না, তবে ভালো।

 

কাঁচা আমের ঝাল চা!

টিএসসি (ঢাবি) এবং পলাশী (বুয়েট)—দুটোই খুব বিখ্যাত জায়গা। দুটো জায়গাতে প্রায় ৪০ রকমের চা পাওয়া যায়। বিশেষ করে বিকেল থেকে এখানে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী ছাড়াও অনেকেই আসেন এবং চায়ের কাপ হাতে ‘চা-আড্ডা’য় মেতে ওঠেন। এখানকার উল্লেখযোগ্য চা হলো মরিচ চা, পনির চা। কাঁচা আমের ঝাল চা, লাল চা আর দুধ চা তো আছেই! দাম একেকটার একেকরকম!

 

নুরুজ্জামানের হরলিক্স চা

সম্পূর্ণ দুধের চা, মালাইয়ের চা, আর অসম্পূর্ণ দুধের চা এই অদ্ভুত নামে চা বিক্রি করেন রংপুরের নুরুজ্জামান। উল্লেখ্য, তার চায়ে দুধের পরিমাণ বেশি এবং হরলিক্স দেওয়া থাকে। এটাই তফাত্! মালাই চায়ে ৪০% মালাই আর বাকি ৬০% দুধ চা। আহ! সেই একটা ভালোবাসা এটা। চায়ের স্বাদ অসাধারণ। রংপুরের কলেজ রোডের সুফরা ইন্ট্যারন্যাশনাল স্কুলের পাশেই তার দোকান।

 

বর্ণালির মোড়ের মালাই চা

আমার খাওয়া এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভালো মালাই চা এটা। ১০ টাকায় ভরপুর মালাই এবং স্বাদেও বেশ। যারা দুধের সর পছন্দ করেন না তাদের ভালো না-ও লাগতে পারে। চিনির পরিমাণ কমবেশি করে নিতে পারবেন।