জাতীয় অ্যাথলেটিকসের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের লড়াইয়ে এখনকার অবস্থা হলো, রাজা আসে রাজা যায় কিন্তু রানি বদলায় না। এবারো অনেকটা তাই হয়েছে। সেই পুরনো কথা, পুরনো রানির পাশে নতুন রাজা আসন নিয়েছেন। রানি শিরিন আক্তার ঠিকই আছেন। তার পাশে মুকুট মাথায় তুলেছেন নতুন রাজা ইসমাইল।
শিরিন এবং ইসমাইলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ট্র্যাকের উপরে ঝড় উঠল। বিকাল সাড়ে তিনটা হতে ১০০ মিটারের অপেক্ষা। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল আসলেন। সব আনুষ্ঠানিকতার পর ১০০ মিটার স্প্রিন্টের লড়াই শেষ হতে হতে গোধূলি লগ্ন।
ফিনিশিং টাচের পরই শিরিন এবং ইসমাইলকে নিয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ল সংবাদ মাধ্যম। যদিও দেশের অ্যাথলেটিকস কোনো জৌলুস ছড়াতে পারছে না। তারপরও রং ছড়াতে চায়, নতুন স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে চান দেশের অ্যাথলেটরা। সামনে এসএ গেমস। এখন থেকে অনুশীলন করতে পারলে এসএ গেমস হতে পদকের খবর আসতে পারে।
এসএ গেমস কাঠমান্ডুতে হওয়ার কথা রয়েছে। যদি না হয় তাহলে বাংলাদেশ গেমস হবে এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে বিওএ। প্রশিক্ষণটা বিফলে যাবে বলে মনে করছেন না নৌবাহিনীর দুই অ্যাথলেট শিরিন আক্তার এবং ইসমাইল।
শিরিনের চেয়ে একটু নতুন খবর হচ্ছে ইসমাইল। এই ইসমাইল অনেকটা জেদ করে ১০০ মিটারে লড়াই করতে এসেছেন। তিনি ছিলেন লং জাম্পার। সামার মিট এবং ন্যাশনাল মিট মিলিয়ে ৮টি পদকও জয়ে করেছিলেন। সাফল্য দেখিয়েও তিনি যেন মনে শান্তি পাচ্ছিলেন না। লংজাম্পে লড়াই করে কৃতিত্ব দেখালেও সংবাদ মাধ্যম ঘিরে ধরে ১০০ মিটার স্প্রিন্টারদের।
কেউ পারুক না পারুক, সব আলো সেখানে। অন্ধকারে দাঁড়িয়ে এসব দেখে মনের মধ্যে সুপ্ত বাসনা ইসমাইলের। একবার সুযোগ পেলে দেখিয়ে দেবেন। নিজেকে তৈরি করছিলেন সেভাবে। রোদ-বৃষ্টি কোনো কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি কুমিল্লার সন্তান ইসমাইলকে। অদম্য এই অ্যাথলেট পরিশ্রমের সুফল পেয়েছেন। কাল সব আলো কেড়ে নিয়েছেন ইসমাইল।
আগের বছর ১০০ মিটার স্প্রিন্টে রাজার মুকুট পরা বিকেএসপির হাসান মিয়াকে (সময় ১০.৩০) হটিয়ে দিয়ে নৌবাহিনীর ইসমাইল দ্রুততম মানব হলেন (সময় ১০.২০)। ২৬ বছর বয়সের এই অ্যাথলেট এভাবে দেশের সেরা হয়ে উঠলেন কিভাবে? তার জবাবে ইসমাইল বললেন, ‘প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস এন্ড প্র্যাকটিস।’
অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে। গোধূলি লগ্নে সব আলোয় আলোকিত করলেন নিজেকে। ইসমাইল হোসেন বলছিলেন, ‘এত দিন দেখলাম বড় কোনো মূল্যায়ন নেই। ১০০ মিটার না খেললে কোনো মজাও নেই। আন্তর্জাতিক মিটে ১০০ মিটার স্প্রিন্টারদের পাঠানো হয়। ট্রেনিংয়ের জন্যও তাই করা হয়।’
ইলেকট্রনিক টাইমিং শেষ পর্যন্ত চালানো যায়নি। হ্যান্ডটাইমিংয়ে লড়াইয়ে জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন ইসমাইল। ৯১ সালে হ্যান্ডটাইমিংয়ে গোলাম আম্বিয়া ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০.৪০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিলেন। এবার ইসমাইলের পাশাপাশি বিকেএসপির হাসান মিয়া গোলাম আম্বিয়াকে ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়েন ১০.৩০ সেকেন্ড সময় নিয়ে।
নৌবাহিনীর শিরিন আক্তার এ নিয়ে আটবার দেশের দ্রুততম মানবী হয়েছেন। তিনি দেশের এক সময়ের তারকা অ্যাথলেট লাভলী বেগমকে টপকে গিয়েছেন এবার। লাভলী বেগম জানিয়েছেন তিনি সাতবার দ্রুততম মানবীর খেতাব পেয়েছিলেন। আরেক সাবেক তারকা স্প্রিন্টার ফিরোজা বেগম ১০ বার দ্রুততম মানবী হন। বারবার দ্রুততম মানবী হওয়া শিরিনের নতুন কোনো আনন্দ নেই। তার আক্ষেপ নৌবাহিনী হতে এসে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ট্র্যাকে অনুশীলন করে আবার ফিরে যাওয়া কঠিন। নৌবাহিনীর একজন কোচও বলছিলেন তারা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুশীলন করে দুই ঘণ্টা জ্যামে পড়ে থাকলে শরীরের ক্ষতিটাই বেশি হয়।
