দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার পাশাপাশি আমরা একটি আধুনিক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছি। কিন্তু তাতে পদে পদে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে নানা বিশৃঙ্খলা ও নিয়ম না মানার মানসিকতা। আধা সামন্তবাদী একটি সমাজকে কি আসলেই আধুনিক রূপ দেওয়া সম্ভব? এ ব্যাপারে টেলিফোন ও ই-মেইলে প্রাপ্ত পাঠকের মতামত প্রকাশিত হল
আমাদের প্রজন্মের একটা আক্ষেপ থাকতে পারে যে, আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ পাইনি। কিন্তু এ কথাও ভুলে গেলে চলবে না যে, মুক্তির জন্য সেই যুদ্ধ তো এখনো শেষ হয়ে যায়নি! তাই প্রশ্ন, যার যার অবস্থানে থেকে কী করতে পারি দেশের জন্য? প্রথমত, নিজে যদি সচেতন হই, মুক্ত চিন্তার মানুষ হই, তখনই দেশ গড়ার কাজে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তারপর নিজের অবস্থান, নিজের ক্ষমতা বুঝে যে কোনো একটি ক্ষেত্রে অবদান রাখা। এই মুহূর্তে সবচেয়ে উপযোগী ক্ষেত্র হচ্ছে, একটি শক্তিশালী নতুন প্রজন্ম গঠনের জন্য শিক্ষার মাধ্যম তৈরি করা। মানুষ যে সব শিক্ষা শুধু বিদ্যালয়েই পায় তা কিন্তু নয়। তার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী, মিডিয়া সকল ক্ষেত্র থেকেই সে জ্ঞান লাভ করে থাকে। আর সেই জ্ঞানের জন্যই প্রয়োজন একটি তথ্য ভাণ্ডার। চিন্তা করে দেখুন আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কি সম্ভব নয় সকল স্কুলে বা সকল গ্রামে একটি করে লাইব্রেরি দেওয়া? তাহলেই একটি সমাজকে আধুনিক রূপ দেওয়া সম্ভব বলে আমার মনে হয়।
মোছা. বিলকিছ আক্তার
সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল
আধা পাগলের চেয়ে পুরো পাগল যেমন অনেক ভালো তেমনি আধা সামন্তবাদী চিন্তাধারা দিয়ে সমাজকে আধুনিক রূপ দেওয়া সম্ভব নয়। সামন্তবাদী চিন্তাধারা নিয়ে আধুনিকতার স্বপ্ন দেখা বাতুলতা মাত্র। বর্তমান প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই আমাদের আধুনিক সমাজব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যেখানে আজ প্রতিটা মানুষ ডিজিটাল ডিভাইস নাড়াচাড়া করেন, তার সুফল ভোগ করেন, সেখানে সামন্তবাদী চিন্তাধারাকে ঝেড়ে ফেলতে হবে।
মোহাম্মদ শহীদউল্যা
মেরাদিয়া, ঢাকা
বাংলাদেশের দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন পদ্মা বহুমুখী সেতু এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে দীর্ঘ মেট্রোরেল নির্মাণের প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। উন্নয়নের প্রশ্নে বাংলাদেশের আর পেছনে ফেরার অবকাশ নেই। এখন শুধু সামনে চলা। এ এগিয়ে চলাকে টেকসই এবং চলমান রাখতে হবে। এটা বলা যায়, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রা এখন সমৃদ্ধির সোপানে।
অমিত বণিক
উত্তরা, ঢাকা
কার্ল মাক্স তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ Das Kapital-এ লিখে গেছেন— মানুষ ফিউডালিজম, ক্যাপিটালিজম, সোস্যালিজম ও কমিউনিজম স্তরে বিভক্ত। এই ধরনের এক স্তর থেকে আরেক স্তরে বিবর্তনবাদের মাধ্যমে মানুষের উত্তরণ ঘটবে। ফিউডালিজম স্তরে আছে সামন্তবাদ, ধর্মীয় মতবাদ, গোত্র তন্ত্র, সর্দার তন্ত্র, নানাবিধ কুসংস্কার এবং অলৌকিক কর্মকাণ্ড ও ঘটনাবলির উপর পূর্ণ আস্থা স্থাপন। আমরা কম-বেশি ফিউডালিজম স্তরে আছি। এই স্তরে পদে পদে বাধা ও বিঘ্ন অবশ্যাম্ভাবী। কিউবা, উত্তর কোরিয়া, অধুনালুপ্ত যুগোস্লাভিয়া ও রাশিয়া এই স্তরে না বসে থেকে শত বাধা বিঘ্ন ডিঙিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল। কামাল আতাতুর্কের তুর্কিস্তান, কর্নেল নাসেরের মিসর, মাহাথিরের মালয়েশিয়া এবং নেহরুর ইন্ডিয়াও ফিউডালিজম স্তর থেকে উত্তরণের আপ্রাণ চেষ্টা করে অনেকাংশে সফলকাম হয়েছে। আমাদের শেখ হাসিনার বাংলাদেশ সরকারও আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।
ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ,
নোয়াখালী
এখন সময় এসেছে, একুশ শতাব্দীর সমাজ গড়ে তোলার। একটি অসাম্প্রদায়িক, মিশ্র অর্থনীতির, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার। নিম্ন মধ্যম আয় থেকে মধ্য আয়ের এবং সেখান থেকে উন্নত আয়ের দেশে পরিণত করার। জনগণের মাথাপিছু আয় না বাড়াতে পারলে কোনো লক্ষ্যেই আমরা পৌঁছাতে পারব না। দরিদ্রতার সঙ্গে কুশিক্ষা, মৌলবাদ, দুর্নীতি সকল কিছু সম্পর্কিত। একটি জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থাই কেবল পারে দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখে এগিয়ে নিয়ে যেতে। তাই আমাদের জনগণকেই সোচ্চার হতে হবে।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর
সত্যিই পুরো দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, নিঃসন্দেহে আমরা অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার পাশাপাশি আধুনিক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছি। কিন্তু পদে পদে নানা রকম বাধা-বিপত্তিগুলোকে চিহ্নিত করে যদি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তবেই সম্ভব একটি সুন্দর ও আধুনিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
মো. তারিফ হাসান
কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী
আধা সামন্তবাদী সমাজব্যবস্থা থেকে আধুনিক রাষ্ট্রে পুরোপুরি বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও মনে হয় সরকার একটি প্রস্তুতিমূলক কর্ম কাঠামো তৈরি করতে সচেষ্ট হয়েছেন। মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্যদের সংখ্যাটি এই প্রস্তুতির পূর্বাভাস দেয়, তবে পুরোপুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হলে আমাদের সংবিধানের মূল চার নীতিতে ফিরে যেতে হবে। তাহলেই সংসদে শিল্পপতি বা পুঁজিপতিদের ৭০/৮০ ভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও এই ব্যবস্থা তারা প্রতিহত করতে পারবেন না।
মাখরাজ খান
সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ
২০১৮ সালের ১৫ মার্চ জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই উন্নয়নশীল দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। এই জনসংখ্যার ৭২ শতাংশ মানুষ স্বাক্ষর। স্বাক্ষরতার হার ৭২ শতাংশ হলেও সমাজের মানুষের মধ্যে নৈতিক শিক্ষার অভাব এখনো রয়ে গেছে। এই নৈতিক শিক্ষার অভাবে সমাজে এখনো বাল্যবিবাহের হার কমছে না। এখনো যৌতুকের জন্য একটি মেয়ের পরিবারকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়। সমাজের উচ্চ আসনে থাকা ব্যক্তিদের দুর্নীতির কারণে এখনো অনেক গ্রাম আছে যেখানে বিদ্যুত্ যায়নি। অনেক শিশু আছে যারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে না। কারণ সরকার থেকে দেওয়া বই তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না। এইসব বিশৃঙ্খলার কারণে আমাদের দেশ পিছিয়ে আছে।
সাবরিনা সুলতানা মিশু
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সবাইকে সত্ হতে হবে। অনিয়ম দুর্নীতির জঞ্জাল যারা দীর্ঘদিন ধরে করছে তাদের জবাব দিতে হবে। সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, কর্মকর্তা কত টাকা বেতন পান কোথা থেকে কত টাকা আসে সব জানি। সঠিক কথা বলেছেন। এগুলো বিচার করলে দেশ এগিয়ে যাবে।
ডা. গোপাল চন্দ্র পাল
আতাইকোলা বাজার, সাথিয়া,
পাবনা
আধা সামন্তবাদী একটি সমাজকে সত্যি আধুনিক রূপদান করা সম্ভব। যদি আমাদের মনমানসিকতা ভালো থাকে এবং যদি আমরা সবাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই। আমাদের এই সমাজে এমন লোক আছে তারা পরের হক কিংবা থুথু চেটে খেতেও দ্বিধাবোধ করে না। এদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। এদের কঠোর হস্তে দমন করতেই হবে।
ডা. মো. জামিল রহমান
গোপালপুর, টাঙ্গাইল
আধা সামন্তবাদী সমাজকে আধুনিক করতে হলে যে সমস্ত আধা সামন্তবাদী সমাজ তাদের অগ্রগতি সাধন হয়েছে তাদের অনুসরণ করাই শ্রেয়।
মো. আসির যোবায়ের খান
ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা,
ঢাকা
আধা সামন্তবাদী একটি সমাজকে কখনোই আধুনিক রূপ দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ আধুনিক সমাজ কখনো দাসত্ব করে না। আধুনিক সমাজ হবে শৃঙ্খলামুক্ত এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ সেখানে থাকবে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দুর্নীতির মহোত্সব চলছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে একটি কাঙ্ক্ষিত আধুনিক সমাজের স্বপ্নকে রূপদানের প্রয়াস ব্যর্থ হবে। সেজন্য রাষ্ট্রের কর্ণধার থেকে শুরু করে প্রজাতন্ত্রের সকল শ্রেণির নাগরিককে রাষ্ট্রীয় বিধিবিধান ও শৃঙ্খলা মেনে যে যেখানে যে অবস্থায় আছে সেখানেই সঠিক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে।
মোহাম্মদ আবুল কালাম আযাদ
সরদার পাড়া, মুন্সিগঞ্জ
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত চমকপ্রদ। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার পাশাপাশি একটি আধুনিক সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছে এখন। যদিও উন্নয়নের ক্ষেত্রে পদে পদে বাধাও রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা দূর করে দেশ আরো উন্নয়নের দিকে যাবে।
সুলতানা জামান
মানিকনগর, ঢাকা
মানুষ অভ্যাসের দাস। এই অভ্যাসে যখন পরিবর্তন আসবে তখন সব সম্ভব। উন্নয়নের অগ্রযাত্রার পাশাপাশি আধুনিক সমাজ বিনির্মাণ অসম্ভব নয়।
সুগন্ধী আক্তার
মতিঝিল, ঢাকা
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্ আর্থিক প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ২৬তম অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে একটি আধুনিক সমাজ নির্মাণ অবশ্যই সম্ভব।
মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন সেলিম
পূর্ব শেওড়াপাড়া, ইব্রাহিমপুর,
ঢাকা
