আচার্যও চান, উপাচার্যও চান, ক্ষমতাসীন দলও চায়, বিরোধী দলও চায়। বলছি সময়ের আলোচিত ডাকসু নির্বাচনের কথা। প্রতীক্ষার দিন ফুরিয়ে আমাদের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে ডাকসু নির্বাচন। তবে এই কড়া নাড়াটি প্রথম নয়। ডাকসু নির্বাচনবিহীন দীর্ঘ ২৮ বছরে বহুবার এই নির্বাচন কড়া নেড়েছে। কিন্তু সফলতার মুখ দেখেনি। একটি তিক্ত সত্য বলতে চাই। প্রত্যেক সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক পলিটিক্যালি ব্যবহার করা হয়। হলগুলোতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে একটি সিটের জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ২/৩ বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়। হলগুলোতে চলে বহিরাগত এবং অবৈধ শিক্ষার্থীর বাস, অথচ নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বারান্দা এবং গণরুমে কাটাতে হয়। হল প্রশাসন পুতুলের ভূমিকায় দায়িত্ব পালন করে। সিট বণ্টন দায়িত্ব হল কর্তৃপক্ষ ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের কাঁধে চাপিয়ে দেন। এভাবে চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই মুহূর্তে ডাকসু নির্বাচন হলে প্রথমেই ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলা হবে, সিট সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হবে, জোরপূর্বক রাজনীতি করার প্রবণতা বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হবে, গেস্টরুম নামের কনসেন্ট্রেশন সেল বন্ধের দাবি উত্তাপিত হবে। যেগুলো কোনো ক্ষমতাসীন দল চায় না। কারণ, এর ফলে স্বল্পব্যয়ে লব্ধ একটি বিরাট পোষ্যশ্রেণি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকসু নির্বাচন কল্পনা মাত্র। ডাকসু নির্বাচন হলো শক্তির নির্বাচন। যেখানকার রাজা হবেন মহা শক্তিশালী। তার থাকবে বিরাট বাহিনী। যিনি ছাত্রদের নাম ভাঙিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করবেন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর। ডাকসু চাই, তবে তার আগে চাই রাজনীতির প্রভাব-বলয়মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
মো. মাহবুবুর রহমান সাজিদ
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
