অপবাদ স্বয়ং মিথ্যাচার। প্রিয় নবী (স) বলেন, ‘তোমরা মিথ্যার ব্যাপারে সাবধান হও। কেননা, মিথ্যা পাপের দিকে এবং পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়’ (বুখারি)। প্রিয়নবী (স) আরো বলেন, ‘মিথ্যার দুর্গন্ধে ফেরেশতাগণ বান্দার কাছ থেকে এক মাইল বা বহু দূরে চলে যায়’ (তিরমিযি)
মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
অপবাদের মাধ্যমে দু’টি মহাপাপ বিকশিত হয়: (ক) মিথ্যাচার, (খ) পরচর্চা। অপবাদের ফলে ‘হাক্কুল ইবাদ’ বা বান্দার অধিকার খর্ব করা হয়, তাই সহজে এমন পাপ মোচনের সুযোগও থাকে না। মিথ্যাচার মহাপাপ। মহান আল্লাহ্র নির্দেশ ‘মিথ্যা পরিহার কর’ (হজ্জ্ব: ৩০)। তিনি আরো বলেন, ‘আমি কি তাদেরকে দেইনি দু’টি চোখ ও দু’টি ঠোঁট এবং দেখাইনি (সত্য মিথ্যার) দু’টি পথ...’? (বালাদ: ০৮)
অপবাদ স্বয়ং মিথ্যাচার। প্রিয় নবী (স) বলেন, ‘তোমরা মিথ্যার ব্যাপারে সাবধান হও। কেননা, মিথ্যা পাপের দিকে এবং পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়’ (বুখারি)। প্রিয়নবী (স) আরো বলেন, ‘মিথ্যার দুর্গন্ধে ফেরেশতাগণ বান্দার কাছ থেকে এক মাইল বা বহু দূরে চলে যায়’ (তিরমিযি)।
পবিত্র কোরআনে পরচর্চাকে ‘মৃত ভাইয়ের মাংস ভক্ষণতুল্য’ বলা হয়েছে। তথ্য যাচাইয়ের বিষয়ে সতর্ক করে মহান আল্লাহ্ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ। যদি তোমাদের কাছে কোনো দুষ্ট প্রকৃতির পাপাচারী লোক কোনো সংবাদ বা তথ্য নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা খুব ভালোভাবে যাচাই করে নিও। যাতে করে অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত না কর, পরে নিজের আচরণের জন্য তোমাদের লজ্জিত হতে হয়’ (হুজরাত:০৬)। মহান আল্লাহ্ আরো বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ। তোমরা অধিক অনুমান থেকে বেঁচে থাকো। কেননা, কোনো কোনো অনুমান পাপ। আর তোমরা অপরের দোষ খুঁজে বেড়িয়ো না। পরস্পর নিন্দাবাদ করো না...’ (হুজরাত: ১২)।
জনশ্রুতি, অনুমান, তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া কথা বললেই তা অপবাদ পর্যায়ের হয়ে যায়। মহান আল্লাহ্ সতর্ক করে বলেন, ‘যে ব্যাপারে তোমার কোনো জ্ঞান নেই (অযথা) তার পেছনে লেগো না। কেননা, (কিয়ামতের দিন) কান, চোখ, ও অন্তর এ সব কয়টির ব্যবহার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে’ ( বনি ইসরাঈল: ৩৬)।
কাউকে অপবাদ দেওয়া ধর্ম ও আইনের দৃষ্টিতে দণ্ডনীয়। সুরা নুরের ০৪ নম্বর আয়াতে নারী অধিকার, সম্ভ্রম ও মর্যাদার একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপবাদ আরোপকারীর জন্য ০৩টি দণ্ডবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। যথা: (ক) অপরাধীকে শাস্তি হিসেবে আশি বেত্রাঘাত করা, (খ) অপরাধীকে সাক্ষীর অযোগ্য ঘোষণা করা, (গ) এমন অপরাধীকে ‘ফাসিক’ তথা অবাধ্য, দূরাচারী বা দাগী আসামি হিসেবে সাব্যস্ত করা।
lলেখক: সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর
