অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে বড় সংস্কার প্রয়োজন :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩১

দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে বড় ধরনের সংস্কার করতে হবে বলে জানিয়েছেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এক্ষেত্রে শিক্ষাখাতে প্রয়োজনভিত্তিক সংস্কারের বিষয়ে বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, নইলে জ্যামিতিক হারে অগ্রগতি অর্জন করা যাবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় এনবিআরের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকেও বিদায়ী শুভেচ্ছা জানানো হয়।

আ হ ম মুস্তফা কামাল গত ১০ বছরে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিদায়ী অর্থমন্ত্রীর প্রশংসা করে ভবিষ্যতেও তার সহযোগিতা কামনা করেন। আলোচ্য সময়ে অর্থনীতির নানা সূচকের অগ্রগতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবো। ২০৪১ সালের মধ্যে ধনী দেশের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। সেজন্য বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে আসতে হবে। এসব সাফল্য অর্জন করতে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষত প্রয়োজনভিত্তিক, কারিগরি ও আধুনিক  প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা সাজাতে হবে। এ সময় তিনি রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে নতুন অর্থমন্ত্রীকে সহযোগিতা করার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, আগামী বাজেটের কিছু কাজ ইতোমধ্যে করে দিয়েছি। এখন হাতে বেশ সময় আছে, কোনো কাজ প্রয়োজন হলে ডাকবেন। গত ১০ বছরে অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বর্তমান সরকারের   চলতি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অর্থনীতি বেশ ভালো অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তখন আমাদের বিচ্যুত করা এত সহজ হবে না। জিডিপিতে রাজস্বের অবদানের বিবেচনায় বাংলাদেশ এখনো বিশ্বে সর্বনিম্ন উল্লেখ করে রাজস্ব আদায় বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া করদাতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে জরিপ কাজ শিগগিরই শুরু করার কথা বলেন। করযোগ্য যারা কর দিচ্ছেন না, তাদের খুঁজে বের করা হবে। অনেকেই বলছেন, বিশাল রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। তবে নতুন অর্থমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় এটি সম্ভব করতে কাজ করা হবে। এ সময় তিনি বলেন, এনবিআরের ৮০ শতাংশ কর্মকর্তাই সত্। সততা বজায় রেখে রাজস্ব আহরণের জন্য তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় এনবিআরের তিন বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।