প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার চিন্তা আওয়ামী লীগে

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩২

জেলা পরিষদ নির্বাচনের মতো আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার চিন্তা-ভাবনা করছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে যাতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফাঁদে না পড়তে হয় সেজন্যই এমন পরিকল্পনা। এবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে ১২ জন করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এদের থেকে সর্বোচ্চ তিন জনের নাম প্রস্তাব করতে পারবে তৃণমূল। এছাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদেও তিন জন করে নাম পাঠানো যাবে কেন্দ্রে। পরে তৃণমূলের পাঠানো প্রস্তাব ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জরিপ রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড। এই বোর্ডের সভানেত্রী হচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে তৃণমূলের নেতারা প্রার্থী বাছাই করে যে তিন জনের নাম প্রস্তাব করবে সেখানে এমপিদের হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এমপি, মন্ত্রীর কাছের কেউ যাতে মনোনয়ন না পায় সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, সর্বনিম্ন এক যুগেরও অধিক সময় ধরে দলের প্রতি নিবেদিত ত্যাগী নেতাদের এবার বিবেচনায় আনা হবে। দলীয় একটি সূত্র ইত্তেফাককে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কিনা সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এক্ষেত্রে দুই ধরনের কৌশল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে যেকোনো মূল্যে দলের একক প্রার্থী নিশ্চিত করা হবে। আর যদি বিএনপি অংশ না নেয় তাহলে প্রার্থিতা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। দলীয় মার্কার প্রার্থীর পাশাপাশি দলের অন্য নেতাদেরও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকবে। আওয়ামী লীগ এক জনকে মনোনয়ন দেবে আর দলের অন্য কেউ প্রার্থী হতে চাইলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবেন। এক্ষেত্রে দল থেকে বহিষ্কার কিংবা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। যেমনটি ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে হয়েছিল। আর সেই নির্বাচনে ১৩ নেতা চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছিলেন। 

দলীয় সূত্র জানায়, ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে নিরঙ্কুশ বিজয় এসেছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও এই ধারা অব্যাহত রাখতে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য কেন্দ্র থেকে জেলা ও উপজেলা কমিটির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সর্বোচ্চ তিনজন প্রার্থীর নাম পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় তৃণমূলকে কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরমের মূল্য চেয়ারম্যান পদে ২০ হাজার টাকা এবং ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচ হাজার টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে আগামীকাল শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনে মেয়র, উত্তর-দক্ষিণের কাউন্সিলর প্রার্থী এবং কিশোরগঞ্জ-১ আসনের উপনির্বাচনে দলের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাচনে দলের অবস্থান ও একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। প্রসঙ্গত, এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচন হচ্ছে।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ: আগামী মার্চ থেকে কয়েক ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় প্রতীকে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে দলের মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে লবিং-তদ্বির শুরু হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সুনজরে আসতে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন ঢাকায় দৌড়ঝাঁপ করছেন। এমনকি দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখাও করছেন কেউ কেউ।