শালিসে জুতাপেটা, অপমানে আত্মহত্যা

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২১, ০৬:২৮

গ্রাম্য সালিশে কিশোর-কিশোরী প্রেমিক-প্রেমিকাকে জুতাপেটা ও মারপিট করার পর লোকলজ্জায় কিশোরী প্রেমিকা হাসি আক্তার (১১) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের সৈয়দপুর এলাকায় এই অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থেকে কিশোর প্রেমিক মাসুম (১৬) ও তার পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।

গতকাল সোমবার এলাকাবাসী জানান, আত্মহত্যাকারী কিশোরীর বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার রানী শংকৈল উপজেলায়। বাবা মো. হাসেম আলী মিয়া তার পরিবার নিয়ে সৈয়দপুর এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে ইটভাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। কিশোরী হাসি ও পাশের বাড়ির ভাড়াটিয়া মাসুমের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হলে গত শনিবার পরান আলীর বাড়িতে গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে প্রেমিক-প্রেমিকা মাসুম ও হাসিকে জুতাপেটাসহ বেদম প্রহার করা হয়। সালিশে মাতব্বর উকিল মিয়া, দাউদ আলী ও কালামসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার এক দিন পর গত রবিবার সকাল ৮টার দিকে কিশোরী হাসি নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ সময় বাড়িতে আর কেউ ছিল না। আশপাশের লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে তার পরিবার ও পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠায়।

এদিকে ঘটনার পর পর পুলিশ হাসির প্রেমিক মাসুমকে আটক করতে তার বাড়িতে যায়। কিন্তু তাকে না পেয়ে তার নানা ও নানি এবং মাসুমের বন্ধু হাসানকে আটক করে। তাদের থানায় নিয়ে আসার পথে ধেরুয়া এলাকায় পুলিশের ভ্যান থেকে লাফ দিয়ে হাসান পালানোর চেষ্টা করে। গুরুতর আহত হাসান বর্তমানে কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ আটক দুই জনকে পরে ছেড়ে দেয়।

এ ব্যাপারে জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. একরামুল হকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ডিউটি অফিসার জানান, থানায় অভিযোগ হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

ইত্তেফাক/এমআর