বেড়েছে শিশু অপমৃত্যুর হার

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৭

বিগত বছরেও শিশু অপমৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ২০১৮ সালে অপমৃত্যুর শিকার হয়েছে ২ হাজার ৩৫৪ শিশু। যা ২০১৭ সালে ছিল এক হাজার ৭১০ জন। সামগ্রিকভাবে শিশু অপমৃত্যুর হার বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ বলে উল্লেখ্য করা হয়েছে শিশু অধিকার পরিস্থিতি-২০১৮তে।

গত বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে। শিশুদের নিয়ে কাজ করা ২৬৯টি সংগঠনের মোর্চা সংগঠন ‘বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ) ‘২০১৮ সালের শিশু পরিস্থিতি’ তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। দেশের ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের পর্যালোচনা থেকে তারা এ তথ্য জানায়।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফোরামের পরিচালক আবদুছ শহিদ মাহমুদ। তিনি বলেন, বিগত বছরে মোট ৪ হাজার ৫৬৬ শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যাদের মধ্যে ২ হাজার ৩৫৪ শিশু অপমৃত্যুর শিকার হয়েছে। ৮১২ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

বেড়েছে শিশু অপঘাত ৭১ দশমিক ৪৩ শতাংশ হারে। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে শিশুদের প্রতি সহিংসতার হার বেড়েছে ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তিনি বলেন, ২০১৮ সহিংসতার শিকার শিশুদের ৬টি বৃহত্ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এসব হচ্ছে- অপমৃত্য, যৌন নির্যাতনে শিকার, অপহরণ, নিখোঁজ ও উদ্ধার, নির্যাতন ও সহিংসতা, অপঘাতে শিকার, বাল্যবিয়ে শিকার ও অন্যান্য।

২০১৮ সালে হত্যার শিকার হয়েছে ৪১৮টি শিশু। যা ২০১৭ সালে ছিল ৩৩৯ অর্থাত্ ২০১৮ সালে সামগ্রিকভাবে শিশু হত্যা বেড়েছে ২৩.৩০%। ২০১৮ সালে শিশুদের মাঝে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে ৩৯.৯১%। ২০১৮ সালে ২৯৮টি শিশু আত্মহত্যা করে যা ২০১৭ সালে ছিল ২১৩টি। ২০১৮ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২৭টি শিশু নিহত হয়েছে যা ২০১৭ সালের চেয়ে ৭৫.৬৩% বেশি। ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫৭টি শিশু নিহত হয়েছিল।

বিগত বছরের তুলনায় এই বছরে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি। ২০১৮ সালে সারা দেশে মোট ৮১২টি শিশু বিভিন্ন ধরনের যৌন নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে যা ২০১৭ সালের তুলনায় -৯.১৭% কম। ২০১৮ সালে মোট ৫৭১ টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে যাদের মধ্যে ৯৪টি শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছে, ২৮টি বিশেষ শিশু ধর্ষণে শিকার হয়েছে, ৬০টি শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ৬টি শিশু ধর্ষণের অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে।

২০১৭ সালের চেয়ে ২০১৮ সালে শিশু অপহরণের ঘটনা ১৫.২৫% হ্রাস পেলেও অপহরণের পর শিশু হত্যা বেড়েছে ১৯.২৩%। তবে ২০১৭ সালের চেয়ে ২০১৮ সালে উদ্ধার তত্পরতায় অপেক্ষাকৃত বেশি উন্নতি (৩৮.৭৮% বেশি) লক্ষ করা যাচ্ছে। ২০১৮ সালে, ২০১৭ সালের তুলনায় সব ধরনের শারীরিক নির্যাতন এবং সহিংসতা কমেছে ৩.৩২%। ২০১৮ সালে অপঘাতে শিশু আহত হওয়ার ঘটনা বেড়েছে ৭১.৪৩%। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, শিশু ধর্ষণ মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এসব অপরাধের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করতে হবে।

বিএসএএফ-এর প্রতিনিধিরা বলছেন, শিশু অধিকার পরিপূর্ণভাবে আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে শুধু আইন করে তা সম্ভব নয়, আবার একা সরকারের পক্ষেও সেটা সম্ভব নয়। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারসহ সকলেরই যার যার অবস্থান থেকে কিছু ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

তারা বলেন, হত্যা-ধর্ষণসহ সকল ধরনের শিশু নির্যাতনের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া এবং রায় দ্রুতগতিতে কার্যকর করা হলে শিশুদের উপর এ ধরনের নির্যতন কমে আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপারসন ডা. খাওয়াজা শামসুল হুদা, ইউএনডিপি’র হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের প্রধান টেকনিক্যাল উপদেষ্টা শারমীলা রাসুল প্রমুখ।