তুচ্ছ ঘটনায় কর্মচারী ও নার্সদের উত্তেজনা

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৮

তুচ্ছ ঘটনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নার্স এবং কর্মচারীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের হাতে এক নার্সের স্বামী লাঞ্ছিত হওয়ার প্রতিবাদে নার্সরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। অভিযুক্ত কর্মচারীদের শাস্তি দাবি করেন নার্সরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউতে নার্স ও কর্মচারীরা মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এতে রোগীরা পড়েন ভোগান্তিতে। বিষয়টি তদন্ত করতে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র স্টাফ নার্স ফারহানার স্বামী গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের বহির্বিভাগ নম্বর ১-এ আসেন রোগী দেখানোর উদ্দেশ্যে। তিনি কোট-প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় চেয়ারে বসা ছিলেন। তাকে দেখে কর্মচারীদের সন্দেহ জাগে-তিনি মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ কি-না। কয়েকজন কর্মচারী দলবদ্ধ হয়ে নার্সের স্বামীর কাছে জানতে চান পরিচয়। কিন্তু পরিচয় না দিয়ে নার্সের স্বামী কড়া ভাষায় উল্টো কর্মচারীদের পরিচয় জানতে চান। এক পর্যায়ে বাকবিতণ্ডা থেকে শুরু হয় মারামারি। পরে নার্স স্বামী পরিচয় দেওয়ার পর কর্মচারীরা শান্ত হন। এরপর বিচার চেয়ে নার্সরা বুধবার দফায় দফায় পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল­াহ আল হারুনের কাছে যান। পরিচালক উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও নার্সরা মানতে চাননি। তাদের দাবি ছিল-তাত্ক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত কর্মচারীদের বরখাস্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে, ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মচারীরা ফারহানার কাছে দফায় দফায় ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু নার্সরা এতে সন্তুষ্ট হননি।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নার্সরা সি ব্লকের নিচে জড়ো হতে থাকেন। খবর পেয়ে তাদের কাছাকাছি জায়গায় কর্মচারীরাও অবস্থান নিতে থাকেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃংখলা বাহিনীর মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন প্রশাসন। ঘটনা মীমাংসার জন্য উভয়পক্ষ থেকে ৫ জন করে মোট ১০ জনকে নিয়ে আসেন বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত ভাইস-চ্যান্সেলরের কক্ষে। পরে প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার, অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. নাজমুল করিমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উভয়পক্ষের কথা শোনেন। তারা উপযুক্ত বিচারের আশা দিয়ে নার্সদের আশ্বস্ত করেন। কিন্তু নার্সরা এতেও রাজি হননি। পরে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে কাজে যোগ দিতে নার্সদের অনুরোধ করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এই বিষয়ে নার্সিং শাখার উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক খালেদা আক্তার বলেন, ঘটনার সময় প্রতি ওয়ার্ডে দু’জন নার্স দায়িত্ব পালন করেছেন। এতে রোগীদের কোনো সমস্যা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি বিভাগের কর্মচারী এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সংগঠনিক সম্পদক ফারুক বলেন, বুধবারের ঘটনা একটা ভুল বুঝাবুঝি ছিল। ক্ষমা চাওয়ার পরও বৃহস্পতিবার নার্সরা অবস্থান নেওয়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়।

ভিসির দায়িত্বে থাকা প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার বলেন, বুধবারের ঘটনায় ওইদিনই উত্তেজনা প্রশমনের জন্য তাত্ক্ষণিক প্রো-ভিসি (প্রশাসন) ও পরিচালক (হাসপাতাল) মীমাংসা করে দেন; কিন্তু বৃহস্পতিবার কিছু সংখ্যক নার্স এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মধ্যে একটা উত্তেজনা সৃষ্টি করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আব্দুল আজিজকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।