বোরহানউদ্দিনে দখল-দূষণে অস্তিত্বসংকটে ১১ খাল

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২১, ২১:৫৫

দখল ও দূষণে অস্তিত্ব হারাচ্ছে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার খালগুলো। এতে খালের পানির স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে।  বর্তমানে পৌরসভা ও চার ইউনিয়নের ১১ খালে নাব্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানির অভাবে চলতি বোরো মৌসুমে ১২.১৯ হেক্টর জমি পতিত রয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে। এর আওতায় ২ হাজার ২৯২ জন কৃষক ফসলি জমির আবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ১০ হাজার ২০০ হেক্টর জমি আবাদ হয়েছে। যেখানে গড় উত্পাদন হবে ৫১ হাজার টন। উপজেলার পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ড, পক্ষিয়া, কুতুবা, বড়মানিকা, কাচিয়া ইউনিয়নের ১১টি খাল দখল ও দূষণের কারণে নাব্য সংকটে ভুগছে। ফলে পানির সংকটে ৩ হাজর ৯ একর (১২.১৯ হেক্টর) জমির বোরো আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ৬০.৯২ মেট্রিকটন বোরো আবাদ কম হচ্ছে প্রতি মৌসুমে। কৃষি বিভাগের দাবি, বোরো আবাদে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য খাল পুনঃখনন কিংবা বারিড পাইপ স্থাপনের জন্য বিএডিসি বরিশাল রিজনে চাহিদাপত্র প্রেরণ করলেও ফলাফল পাওয়া যায়নি।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খায়রুল আলম মুন্সী। তিনি আরো জানান, পক্ষিয়া ইউনিয়নের বোরহানগঞ্জ বাজার থেকে নোওয়াব মিয়ার হাট হয়ে মেঘনার বেড়িবাঁধ পর্যন্ত এলাকায় বর্তমানে ২৭৫ হেক্টর জমি আবাদ হয়। খালগুলোর দখলমুক্ত কিংবা পুনঃখনন করতে পারলে বাড়তি ১ হাজার হেক্টর তিন-চার ফসলি জমি চাষাবাদের আওতায় আনা যাবে। উত্পাদন বাড়বে প্রায় ৫ হাজার টন বোরো ধানের। পাশাপাশি খাল তীরবর্তী টবগি ও হাসান নগরের কৃষকরা বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে পারবে। বাটামারা ও উদয়পুর রাস্তার মাথা এলাকার কৃষক নূরনবী, আলাউদ্দিন, ছলেইমান, আলাউদ্দিন-২, হাবিবুল্লাহ, জসিম, আব্বাস জানান, খালগুলো দখল-দূষণে ভরে গেছে। এতে পানির অভাবে বর্তমানে তাদের স্কিম বন্ধ হয়ে গেছে। অপরদিকে সালাউদ্দিন, আব্দুল জলিল, নাসির জানান, পানির সংকটে তারা অল্প পরিমাণ জমিতে বোরো চাষ করতে পারছেন। তারা খালগুলো দখল মুক্তের দাবি জানান।

বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী মো. ফরিদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ভোলা, দৌলতখান, তজুমুদ্দিন ও বোরহানউদ্দিনে আমাদের খাল খনন কিংবা পুনঃখননের কোনো প্রকল্প নেই। প্রজেক্ট পাশ হলে খনন করা সম্ভব হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘উত্পাদন বাড়াতে খালগুলো পুনঃখনন কিংবা বারিড পাইপ স্থাপন করা দরকার।’ বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেয়েছি। দখলদারদের বিরুদ্ধে শিগগির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।