রাজধানীর মালিবাগে ‘হলি লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দে ’ ইয়াসিন ওয়াহিদ (১৯) নামে চিকিত্সাধীন এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিরাময় কেন্দে র লোকজন তাকে খিদমাহ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। ইয়াসিন গত বছর এসএসসি পাশ করে। নিরাময় কেন্দে র লোকজন দাবি করছে, ইয়াসিন বাথরুমে আত্মহত্যা করেছে। তবে ঐ তরুণের স্বজনদের অভিযোগ, নির্যাতন করে হত্যার পর আত্মহত্যার প্রচার চালানো হয়েছে।
ইয়াসিনের বাবা মাসুদ মিয়া জানান, তার ছেলে মাদকাসক্ত ছিল না। প্রায় সব সময়ে কিছু দাবি করত। না দিলেই উলটাপালটা আচরণ করত। এরপর মালিবাগের ডিআইডি রোডের ঐ নিরাময় কেন্দ্রে তাকে ভর্তি করা হয়। দুই দফা ছেলেকে দেখতে গেলেও ‘বড় হুজুরের’ অনুমতি নেই জানিয়ে তাকে ফেরত পাঠানো হয়। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নিরাময় কেন্দে র লোকজনই তাকে ডেকে নেন। তখন দেখেন অচেতন ইয়াসিনকে ধরাধরি করে সিঁড়ি দিয়ে নামানো হচ্ছে। পরে তাকে খিদমাহ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।
হলি লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দে র পরিচালক ইয়াজ উদ্দিন বলেন, ইয়াসিন নামের ঐ রোগী সব সময়ে উত্তপ্ত আচরণ করত। আত্মহত্যার চেষ্টা চালাত। মঙ্গলবার সকালে সে বাথরুমে যায়। দীর্ঘক্ষণেও বের না হলে দায়িত্বরত লোকজন গিয়ে দেখে গামছা পেঁচিয়ে সে পড়ে আছে। এরপর তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। হাতিরঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মহিউদ্দিন ফারুক জানান, খবর পেয়ে তারা ইয়াসিনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছেন। নিরাময় কেন্দ থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তারা যাচাই করছেন। তা ছাড়া সেখান থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার জনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে ঐ তরুণের মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
গতকাল সন্ধ্যায় মৃত ইয়াছিনের ময়নাতদন্ত করেন ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি জানান, মরদেহের গলায় দাগ, বাম হাতের কনুইয়ের ওপরে ও বাম পাঁজরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে গলা থেকে টিস্যু, ভিসেরা ও রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলোর রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ইয়াসিনের বাড়ি বরিশাল বাকেরগঞ্জ উপজেলার বড়পাশা গ্রামে।
