যাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২১:১১

আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। তবে দেশব্যাপী এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উদ্যোগে আয়কর মেলা চলছে। করদাতাদের একটি বড় আয়কর মেলায় কর দিয়ে থাকেন। কর অফিসের চাইতে কর মেলায় ঝামেলা কম থাকে। হয়রানিও থাকে না বললেই চলে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন- কারা আয়করের আওতায় আসবেন কিংবা আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন? 

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক আয় আড়াই লাখ টাকার বেশি হলে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। এছাড়া সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১৬ হাজার টাকা বা তার বেশি হলে রিটার্ন জমা দিতে হবে। কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার, পরিচালক বা উচ্চপদে চাকরিজীবী, ফার্মের অংশীদার, ব্যবসা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে বেতনভোগী কর্মী হলে রিটার্ন জমা দিতে হবে। মোটরগাড়ির মালিক (প্রাইভেট কার, জিপ ও মাইক্রোবাস); ভ্যাট আইনের অধীনে নিবন্ধিত ক্লাবের সদস্য হলে; সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করলে; চিকিত্সক, আইনজীবী, হিসাববিদ, প্রকৌশলী, স্থপতি বা সার্ভেয়ার বা সমজাতীয় পেশাজীবী হিসেবে কোনো স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার নিবন্ধন থাকলে; আয়কর পেশাজীবী হিসেবে এনবিআরে নিবন্ধিত থাকলে; ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যপদ থাকলে, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের কোনো পদে বা সংসদ  সদস্য পদে প্রার্থী হতে চাইলে; সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা স্থানীয় সরকারের টেন্ডারে অংশগ্রহণ  করলে এবং কোনো কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে দায়িত্বে থাকলে আয়কর রিটার্ন   জমা দিতে হবে।

আয়করের হার: বর্তমানে ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা। আড়াই লাখ টাকার উপরে আয় হলে, নির্দিষ্ট হারে কর দিতে হবে। মহিলা ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সী ব্যক্তির করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার করমুক্ত আয়ের সীমা সোয়া চার লাখ টাকা। এর উপরে আয় হলে আয়কর দিতে হবে। সাধারণ করদাতাদের ক্ষেত্রে আড়াই লাখ টাকার উপরে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে আয়কর ১০ শতাংশ। এর পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর কর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর করহার ২০ শতাংশ, পরবর্তী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর ২৫ শতাংশ এবং এর পরবর্তী যে কোনো পরিমাণ আয়ের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ কর দিতে হবে। অর্থাত্ বছরে কারো মোট আয় সাড়ে ৪৭ লাখ টাকার বেশি হলে ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। এছাড়া কিছু খাতের আয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি কর আরোপ করা হয়েছে। অর্থাত্ তামাকজাতীয় পণ্য প্রস্তুতকারী ব্যবসা থেকে আয়ের ক্ষেত্রে আয়কর ৪৫ শতাংশ, বাংলাদেশে অনিবাসী শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তির করদায় ৩০ শতাংশ এবং নিবন্ধিত সমবায় সমিতির আয়ের উপর করের হার ১৫ শতাংশ।

রিটার্ন জমা দিতে যেসব নথিপত্র

প্রয়োজন হতে পারে

করদাতা চাকরিজীবী হলে বেতন বিবরণী, ব্যাংক সুদ থেকে আয় হলে তার বিবরণী, বিনিয়োগ থাকলে তার স্বপক্ষে প্রমাণাদি (সঞ্চয়পত্রের সার্টিফিকেট, জীবন বীমার পলিসি থাকলে প্রিমিয়ামের ফটোকপি, শেয়ার, বন্ড বা ডিবেঞ্চারের ফটোকপি) জমা দিতে হবে। গৃহসম্পত্তি খাতে বা বাড়ি ভাড়া থেকে আয় হলে ভাড়ার চুক্তিনামা বা রসিদের কপি এবং ব্যাংকে জমার ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাবের বিবরণী; পৌর কর, সিটি কর্পোরেশন কর  প্রদানের রসিদের কপি; ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে বাড়ি কেনা বা নির্মাণ করা হলে ঋণের সুদের সমর্থনে ব্যাংক সার্টিফিকেট, গৃহসম্পত্তির বীমা করা থাকলে বীমার প্রিমিয়ামের রসিদের কপি রিটার্নয়ের সঙ্গে দিতে হবে। অন্য উত্স থেকে আয় থাকলে তার স্বপক্ষে কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এছাড়া প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা অথবা ওয়ার্ড কমিশনার অথবা যে কোনো টিআইএনধারী করদাতার দ্বারা সত্যায়িত করা ছবি প্রয়োজন হবে।