আবদুর রাজ্জাক
[বিলকিস বেগম যাকে তাহমিনা বেগম বলে ডাকা হতো]
ঘটনাক্রমে শালিকের ডিম, কার্পাশ তুলা,
ধূসর চড়ুইয়ের মাংস, তোমরা আমার স্বর্ণপ্রভা দিনের
দাগগুলো মুছে দিয়ে যেও,
ঘটনাক্রমে শুভাগত দিনের বদলে এমন দিনটিই
আমাকে দেখে যেতে হলো।
শুনেছি, ঝরাপাতার প্রশান্ত বিলাপ অবিরাম,
নির্জলা সৌরভ সাঁতরে, তোমার স্তনের তীরে ঠোঁট
রেখে, নৌকো একখান ভেসে আছি সমুদ্র সমীপে।
তোমার আতাপাকা গাল, শিশুর মতো
লাল দুটি ঠোঁট,
আপত্তি থাকার কথা নয়, কী অদ্ভুত জ্যোতি যেনো
অন্তিম প্রহরের সোনালি রৌদ্রে।
তারা-ভরা আকাশ লিখে রেখেছে এইসব প্রাজ্ঞ
দিনের কথা।
তোমার স্তনবৃন্ত ঘিরে স্বপ্নাবৃত্তের ধ্বনি, কি জানি কী
কারণে তোমাকে সামনে রেখে—
আমার চোখদুটি ভিজে ওঠে, তোমার পায়ের নিচে-
তটে, ভেজা বালি হয়ে উঠি, আত্মতৃপ্তির।
আমার মৃত্যু বৃষ্টির অপমৃত্যু বলে প্রচারিত হয়েছিলো।
টেলিফোন এবং ডোরবেল
বুলান্দ জাভীর
যুগপত্ বেজে ওঠে টেলিফোন এবং ডোরবেল
তুমি কোনটিকে স্বাগত জানাবে
একটি শব্দ অন্যটিকে ছাপিয়ে যাচ্ছে
আবেদনের দৃঢ়তায় একটি শব্দ ছাপিয়ে
যাচ্ছে অন্যটাকে।
তুমি কোন শক্তির কাছে পরাস্ত হবে!
একজন দাঁড়িয়ে আছে দরজায় রক্তমাংসে
অন্যজন ইথারে শুধু ধ্বনির ওপর ভর করে
টেলিফোনের ওপারে
তুমি কাকে সম্মান করবে।
জৈবিক স্পর্শ না ধ্বনি-তরঙ্গের ছোঁয়া!
আমি জানি তুমি এখন দ্বিধার
দোলাচলে তীরবিদ্ধ হয়ে
ছটফট করছ আহত পাখির মতো
আমি তোমার একলব্য প্রেমিক
তোমার মুক্তির লক্ষ্যে প্রত্যাহার
করছি আমার ডোরবেল এবং
টেলিফোন।
