ক্যান্সার শব্দটি আমাদরে সকলের নিকট একটি ভীতিকর শব্দ। এটি মানব দেহের একটি মারাত্মক ও জটিল ব্যাধি। ক্যান্সারের কারণে মানুষের দেহের কোষগুলো অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পায় এবং আকৃতি পরিবর্তন হয়ে যায়। মরণঘাতক হিসেবে এইডস এর পরেই ক্যান্সারের অবস্থান। আর ফুসফুসে ক্যান্সার হচ্ছে একটি ভয়াবহ ব্যাধি। প্রতি বছর বিশ্বের অসংখ্য মানুষ এ ব্যাধিটিতে আক্রান্ত হচ্ছে। এই ব্যাধিটিতে সাধারণত মহিলাদের চেয়ে পুরুষরাই বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। ফুসফুস বা লাংস
ক্যান্সারের ভহাবহতার প্রধান
কারণ হচ্ছে এ রোগটি সম্পূর্ণ নিরাময় হবার কোন ওষুধ
আবিষ্কৃত হয়নি। এটি কোন
জীবাণু ঘটিত রোগ নয়।
তাই চিকিত্সা বিজ্ঞানীদের
পক্ষে এর প্রতিরোধক
আবিষ্কার করাও কষ্টসাধ্য
ব্যাপার হয়েছে। তবে ফুসফুসের ক্যান্সার চিকিত্সায় বর্তমানে কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপি অভাবনীয় কার্যকরী ফল দিচ্ছে। চিকিত্সকগণ এ ব্যাধিটি
সম্পূর্ণ প্রতিকারের জন্য
গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ফুসফুসে ক্যান্সারের একটি
অন্যতম কারণ হল ধূমপান। যে সকল ব্যক্তিরা ধূমপায়ী তারাই প্রধানত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন বেশি। ধূমপান হল ফুসফুসের ক্যান্সারেরর
সবচেয়ে বড় শত্রু। ধূমপান
ছাড়াও শিল্প কলকারখানার নির্গত ধোঁয়া এবং গাড়ীর কালো ধোঁয়া ফুসফুসের ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী। ফুসফুসের প্রদাহ জনিত রোগ যেমন-যক্ষ্মা ও নিউমোনিয়া ভাল হওয়ার পরও ফুসফুসের আক্রান্ত স্থানে ক্যান্সার দেখা
দিতে পারে। নানা ধরণের রাসায়নিক পদার্থ-ক্রমিয়াম, ক্যাডমিয়াম, এসবেস্টস ইত্যাদির সংস্পশে যে সকল ব্যক্তি দীর্ঘদিন কাজ করে তাদের ক্ষেত্রেও ফুসফুসের ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা থাকে।
ফুসফুসের ক্যান্সার রোগের
উপসর্গ বা লক্ষণ সকল রোগীর ক্ষেত্রে একই রকম হয় না।
কারও কাশি, শ্বাসকষ্ট, সাথে
বুকে ব্যথাও হয়ে থাকে।
এ সকল লক্ষণ দেখা দেয়
যদি রোগীর টিউমার ফুসফুসের বাহির পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। আবার যাদের টিউমার ফুসফুসের
ভিতরে বৃদ্ধি পায় তাদের কাশির সাথে রক্ত যায় এবং পুঁজ জাতীয় কাশি হয়। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এছাড়াও আরো যেসকল উপসর্গ রয়েছে-চোখে অসুবিধা দেখা
দিতে পারে। হাতের নিচে বগলে, ঘাড়ে চাকার মত হতে পারে।
গলার স্বরের পরিবর্তন হতে
পারে। খাবার খাওয়ার সময়
গলায় আটকে যাবার প্রবণতা
দেখা দেয়। ওজন হ্রাস পেতে পারে। খাবারে অনীহা, রক্ত
স্বল্পতা এবং রক্তে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। প্রস্রাবের সাথে প্রোটিন নির্গত হতে পারে। জ্বর অনুভব হতে পারে। আঙ্গুলের ডগা স্ফীত হয়ে যেতে পারে ইত্যাদি। চিকিত্সকগণ তাদের চিকিত্সার সুবিধার্থে এ ব্যাধিটিকে প্রধানত দু’টি ভাগে ভাগ করেছেন। ননস্থল সেল কারসিনোমা এবং স্থলসেল কারসিনোমা। নন স্থলসেল কারসিনোমা রোগীর দেহে
অনেক দিন ধরে বংশবিস্তার করে। বর্তমানে এর চিকিত্সার জন্য টেক্সোটিয়ার নামক ওষুধটি
ব্যবহূত হচ্ছে। এছাড়া প্রথম অবস্থায় এ ব্যাধিটি ধরা পড়লে অপারেশনের সাহায্যে রোগীকে রোগ থেকে মুক্তি দেয়া সম্ভব। ফুসফুসের ক্যান্সার চিকিত্সায় কেমোথেরাপি ও বিকিরণ এবং রেডিওথেরাপি পদ্ধতি কার্যকরী হলেও টেক্সোটিয়ার নামক ওষুধটি হচ্ছে এর যুগোপযোগী ওষুধ, কারণ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম।
স্থলসেল কারসিনোমার চিকিত্সা সাধারণত ননস্থলসেল কারসিনোমার চেয়ে কম
ব্যববহুল। স্থলসেলের ক্ষেত্রে ব্যাধিটি খুব দ্রুত দেহে ছড়িয়ে পড়ে। স্থলসেলের চিকিত্সা কেমোথেরাপির সাহায্যে
হলেও এর একটি আধুনিক ও কার্যকরী ওষুধ বর্তমানে আবিষ্কৃত হয়েছে। ক্যাম্পটো নামক
ওষুধটি স্থলসেল কারসিনোমার ক্ষেত্রে খুবই ভাল একটি ওষুধ।
ফুসফুসের ক্যান্সার একটি মরণব্যাধি। আমাদের সকলের সচেতনতার দ্বারা এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। ধূমপান হচ্ছে এ রোগের প্রধান কাজ। তাই
সকলের উচিত ধূমপান পরিহার করা এবং ধূমপায়ী ব্যক্তিদের
নিকট হতে দূরে থাকা।
এছাড়া যে সকল কারণ এ মরণব্যাধিটির জন্য দায়ী
সেগুলো থেকে দূরে থাকা।
সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতার দ্বারাই সম্ভব এ
রোগের অভিশাপ থেকে
মুক্ত হওয়া।
অধ্যাপক ডাঃ একেএম, মোস্তফা হোসেন
বক্ষব্যাধি ও এজমা বিশেষজ্ঞ
চেম্বার:ইউনাইটেড হাসপাতাল, গুলশান-২, ঢাকা
