নড়াইল জেলায় পুরুলিয়া নামে নতুন উপজেলা গঠনে ২০ বছরেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি। নতুন ঐ উপজেলা গঠন হওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির অনৈতিক হস্তক্ষেপে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
এদিকে, পুরুলিয়া উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে নড়াইলের কালিয়ার চাচুড়ি বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে গতকাল শনিবার সকালে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
জানা যায়, ২০০১ সালে প্রধনমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কালিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাসহ ২৩ জন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করেন। আবেদনটির ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
নতুন উপজেলা গঠনের বিষয়ে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সমর্থন করে পত্র দেন স্থানীয় সরকার বিভাগে। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, সংরক্ষিত আসনের এমপি ফজিতুলন্নেছা বাপ্পী অনানুষ্ঠানিক পত্র দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বরাবর। কিন্তু কোনো কিছুতেই এগোচ্ছে না। ইতিমধ্যে উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছে।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বিষয়টি কার্যকর করতে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বিধায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারকে পত্র পাঠায়। সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিলের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তত্কালীন খুলনার জেলা প্রশাসক এলাকা পরিদর্শন, স্কেচ ম্যাপসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করেন। এবং ঐ বছরের ২২ এপ্রিল প্রতিবেদন খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে পাঠান। বিভাগীয় কমিশনার সেটি ২৬ এপ্রিল স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠায়। স্থানীয় সরকার বিভাগ সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে পুরুলিয়া উপজেলা গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। ২০১৪ সালের ২৪ অক্টোবরের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী পৌরসভা না থাকলে কমপক্ষে আটটি ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলা গঠনের বিধান রয়েছে। এরকম বাস্তবতায় নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার মাউলি, বাবরা-হাছলা, পুরুলিয়া, চাচুড়ি, পেড়ুলি, পাঁচগ্রাম ও নড়াইল সদর উপজেলার বিছালি ও সিংগাশোলপুর—এই আটটি উপজেলা নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের পক্ষে মতামত দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ।
কালিয়া (নড়াইল) সংবাদদাতা জানান, ২ নম্বর পুরুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইদ্রিস মোল্যার সভাপতিত্বে মানববন্ধন শেষে বক্তব্য রাখেন চাচুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম হিরোক, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা জাকাতুর রহমান, চাচুড়ি বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য আলমগীর হোসেন, আওয়ামী লীগের নেতা মুন্সি লুত্ফার রহমান, ডালিয়া পারভীন সাথী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নবগঙ্গা নদীর পশ্চিম তীর দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। ভৌগোলিক কারণে কালিয়া ও নড়াইল সদর উপজেলার দূরত্ব বেশি। এ কারণে এলাকার মানুষ সরকারি সেবা পেতে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। সে কারণেই আটটি ইউনিয়ন নিয়ে এ উপজেলা পরিষদ গঠনের দাবি করেন তারা।
