গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, দেশে কালো মেঘ দেখা যাচ্ছে। ১৯৭৪ সালের মতো দুর্ভিক্ষের আভাস দেখা যাচ্ছে। দুর্যোগের ঘনঘটা দেখতে পাচ্ছি। মার্কিন খাদ্য সংস্থার রিপোর্ট মতে, দেশে এ বছর এক টন ধান কম উত্পাদন হয়েছে, গম কম উত্পাদন হয়েছে সাত টন। কারাগারে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি একটি কালাকানুন। আগামী ২৬শে মার্চের মধ্যেই এ আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তার জন্য অন্য আইন আছে। প্রয়োজনে সেটি সংশোধন করুন। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের নামে প্রতারণা করবেন না। এটিকে অবশ্যই কবর দিতে হবে। ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার লুটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না, কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় এখন প্রায় ১ হাজার মানুষ কারাগারে।
তিনি বলেন, একটি কার্টুন আঁকলে কী এমন ক্ষতি হয়? কারাগারে মুশতাককে বিনা চিকিত্সায় মরতে হয়েছে। এখন কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যদি চিকিত্সা দেওয়া না হয়, এ কারণে তার যদি মৃত্যু হয় তাহলে কে দায়ী হবে? সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে এর দায় নিতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুও তার বইতে কারাগারে ভালো চিকিত্সা না থাকার বিষয়টি লিখে গেছেন। এখনো দেশের কারাগারগুলোতে ভালো চিকিত্সক ও চিকিত্সা ব্যবস্থা নেই। জরুরি ইসিজি, হার্টের চিকিত্সার ব্যবস্থা নেই। এগুলোর উন্নয়ন না করা বঙ্গবন্ধুকে অসম্মানের সামিল।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনার কল্যাণ চাই। আপনি উজবুক মন্ত্রীদের কথা শুনবেন না। দেশে কোনো সমস্যা দেখা দিলে এই মন্ত্রীদের তখন খুঁজে পাওয়া যাবে না। এজন্য আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ বিরোধীদের উদ্দেশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এখন সময় এসেছে সব দল-মতের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে নামার। দেশে পরিবর্তন ছাড়া শান্তি আসবে না। আপনারা ঘরে বসে থাকবেন না, রাজপথে নেমে আসুন।’
এনডিপির সভাপতি ক্বারি আবু তাহেরের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গণস্বাস্থের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা শওকত আমিন প্রমুখ।
