সুনামগঞ্জে লাউয়ের বাম্পার ফলন

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২১:১৫

সুনামগঞ্জে এবার পানি (পাতি) লাউয়ের বাম্পার ফলন হয়েছে, এমন দাবি লাউ চাষিদের। গত ১ সপ্তাহ ধরে শহর ও শহরতলীর হাট-বাজারে অল্প পরিমাণে শীতকালীন লাউ আসতে শুরু করেছে। দুই দিন হয় বাজারে আসছে বেশি পরিমাণে দেশীয় লাউ। এখন খুচরা বাজারে প্রতিটি বড় লাউ ৬০ টাকা, মধ্যম ৪০ টাকা ও ছোট আকারের লাউ ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি প্রতি শ’ বড় লাউ ৩ হাজার টাকা, মধ্যম ২ হাজার টাকা, ছোট লাউ ১৫শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অকাল বৃষ্টিপাত হওয়ায় শীতকালীন লাউ চাষের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। পুনরায় চাষাবাদ করা লাউ বড় হয়ে বাজারে আসতে একটু সময় লাগছে। তবে এ সপ্তাহে ব্যাপক পরিমাণে দেশীয় লাউ বাজারে আসবে বলে জানান চাষিরা।

চাষিরা জানান, এবার অকাল বৃষ্টিতে প্রথম ধাপে রোপিত লাউ গাছের চারা নষ্ট হলেও পরবর্তীতে রোপিত চারায় যে লাউ উত্পাদন হয়েছে তা গত বছরের চেয়ে অনেকটা বেশি। এ জন্য এবার লাউয়ের দাম কমতে পারে। তবে লাউ চাষে বেশি লাভ। এক কেয়ার জমিতে খরচ হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। লাউ বিক্রি হয় কমপক্ষে ৪৫ হাজার টাকার।

সুনামগঞ্জে এবার যেসব জাতের পাতি লাউ হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে- ডায়না, মার্টিনা, মধুমতি, হাইব্রিড, বাউলা, হীরামন, গ্রিন ডায়মন, আজমিরি জাতের লাউ। এসব জাতের লাউয়ের মধ্যে ভালো উত্পাদন হয় ডায়না, মার্টিন ও মধুমতি। এই তিন প্রকারের লাউয়ের ক্রেতাও বেশি। খেতেও এসব লাউ অন্য লাউয়ের চেয়ে সুস্বাদু। এদিকে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ, সলুকাবাদ, ধনপুর ও দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে লাউয়ের উত্পাদন ভালো হয়েছে বলে চাষিরা জানিয়েছেন। বাঘবেড় গ্রামের চাষি আক্তার হোসেন বলেন, ‘এবার লাউ চাষ ভাল হয়েছে। এখন যে লাউ বাজারে আসছে ওই লাউয়ের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।’

রতারগাঁও গ্রামের চাষি আল-আমিন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এবার লাউ চাষ গতবারের চেয়ে ভালো হয়েছে। আশা করি দামও ভালো পাবো।’

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কীটনাশক ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, ‘আমার দোকানে বিভিন্ন জাতের লাউয়ের বীজ আছে। ভালো উত্পাদন হয় ডায়না, মার্টিন ও মধুমতি জাতের লাউ। এই তিন প্রকারের লাউয়ের বীজ চাষিরা পছন্দ করেন। এই বীজে নাকি ভালো ফলন হয়।’

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন টিপু বলেন, ‘সদর উপজেলায় প্রতি বছর ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়। এরমধ্যে লাউ অন্যতম। এবার জাহাঙ্গীরনগর, সুরমা ইউনিয়নসহ অন্যান্য ইউনিয়নেও লাউ চাষ ভালো হয়েছে। এবার চাষিরা উচ্চমূল্যে লাউ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।’